জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | স্পোর্টস ডেস্ক
তারিখ: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ | সময়: সকাল ৭:২৩ টা
ক্রীড়া প্রতিবেদক: ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত জয় না পেলেও, এক বড় স্বস্তি ও দারুণ এক প্রাপ্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নিউ জার্সির কানায় কানায় পূর্ণ মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘সি’ গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছে সেলেসাওরা। তবে এই ম্যাচে ব্যক্তিগত এক অনন্য ও ঈর্ষণীয় কীর্তি গড়েছেন ব্রাজিলিয়ান নতুন সেনসেশন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, যা তাঁকে বসিয়েছে কিংবদন্তিদের সারিতে।
আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে ভরপুর, শ্বাসরুদ্ধকর এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে ব্রাজিল শুরুতে কিছুটা ছন্দহীন ছিল। যার সুযোগ নিয়ে ম্যাচের প্রথম দিকেই গোল করে এগিয়ে যায় আফ্রিকান লায়ন মরক্কো। এক গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পর যখন ব্রাজিল শিবিরের ওপর চাপ বাড়ে, ঠিক তখনই দলের ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন নম্বর সেভেন—ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
ম্যাচের ৩২তম মিনিটে এক জাদুকরী মুহূর্ত তৈরি করেন ভিনি। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বিদ্যুৎগতিতে বল নিয়ে মরক্কোর ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। সেখানে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে কাটিয়ে এক বুলেটগতির শট নেন। বলটি এতই দ্রুতগতির ছিল যে, মরক্কোর গোলরক্ষক তা ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি। ভিনির এই জাদুকরী গোল ব্রাজিলকে সমতায় ফেরায় এবং গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার হলুদ সমর্থকদের বাঁধভাঙা উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়।
এই ম্যাচটি ভিনিসিয়ুসের জন্য ছিল বিশেষ এক উপলক্ষ। ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সিতে এটি ছিল তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আর নিজের ক্যারিয়ারের সেই ঐতিহাসিক ও মাইলফলক ছোঁয়া ম্যাচটিকেই দুর্দান্ত গোল করে স্মরণীয় করে রাখলেন ভিনি। এটি জাতীয় দলের হয়ে ভিনিসিয়ুসের ১০তম গোল এবং ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে দ্বিতীয় গোল। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে উদীয়মান প্রতিভা হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই তরুণ ফরোয়ার্ড এখন ২০২৬ বিশ্বকাপে সেলেসাওদের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা ও আইকন।
শুধু গোল করাই নয়, ৫০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করেও ইতিহাসে নতুন পাতা লিখেছেন ব্রাজিলের এই উইঙ্গার। সবচেয়ে কম সময়ে জাতীয় দলের হয়ে ৫০ ম্যাচ খেলার রেকর্ডে তিনি পেছনে ফেলে দিয়েছেন ব্রাজিল ফুটবলের দুই সর্বকালের সেরা কিংবদন্তি—পেলে ও রোমারিওকে। যেখানে রোমারিওর ৫০ ম্যাচ পূর্ণ করতে সময় লেগেছিল প্রায় সাত বছর এবং পেলের লেগেছিল পুরো এক দশক, সেখানে ভিনিসিয়ুস মাত্র ৬ বছর ৯ মাসেই পৌঁছে গেছেন এই অভূতপূর্ব মাইলফলকে।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন অভাবনীয় পারফরম্যান্স ও কিংবদন্তিদের ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা ভিনিসিয়ুসকে নিশ্চিতভাবেই বাকি দলগুলোর জন্য বড় এক সতর্কতা দিয়ে রাখল।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















