
দৈনিক কালান্তর
প্রকাশিত: বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২৬
ধর্ম ও জীবন: মানবসভ্যতার সূচনা থেকেই পরিবারকে সমাজের সবচেয়ে প্রাচীন ও মৌলিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হজরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর পরিবার থেকেই মানবজাতির যাত্রা শুরু—এমনটাই ধর্মীয় বর্ণনায় উঠে এসেছে। সময়ের পরিক্রমায় আধুনিক পৃথিবী যতই এগিয়েছে, পরিবারের গুরুত্ব ততই অপরিবর্তিত থেকেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর সব ধর্মেই পরিবারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মানুষের নৈতিক বিকাশ, সামাজিক স্থিতি ও মানসিক প্রশান্তির জন্য পরিবার অপরিহার্য।
গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলও মানুষকে সামাজিক জীব হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, মানুষের উদ্দেশ্য শুধু বংশবিস্তার নয়; বরং সৎ ও সুন্দর জীবন গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিবারই সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।
ইসলাম ধর্মে পরিবারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। কোরআন ও হাদিসে বিবাহ, সন্তান লালন-পালন, পারিবারিক দায়িত্ব এবং সম্পর্ক রক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা রয়েছে। সুরা নূরসহ বিভিন্ন আয়াতে সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের বিয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, পরিবারের মধ্যে বেড়ে ওঠা মানুষ সাধারণত বেশি নৈতিক, দায়িত্বশীল ও মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে থাকে। আধুনিক গবেষণাতেও দেখা গেছে, পারিবারিক বন্ধন মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরিবারবিমুখতার ঝুঁকি
বর্তমান সমাজে কিছু মানুষের মধ্যে পরিবার ও বিবাহবিমুখ প্রবণতা বাড়ছে। অনেকেই ব্যক্তিস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে বিয়েকে অপ্রয়োজনীয় মনে করছেন। তবে বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, জীবনের পরবর্তী সময়ে একাকিত্ব ও মানসিক শূন্যতা তাদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবারবিমুখতা সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, সম্পর্কের ভাঙন এবং সামাজিক অস্থিরতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহের গুরুত্ব
রাসুলুল্লাহ (সা.) বিবাহকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এটিকে মানবজীবনের স্বাভাবিক ও কল্যাণকর পথ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইসলামে পরিবারকে সমাজের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ধর্মীয় গবেষকদের মতে, বিয়েহীন সমাজ ইসলামী আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিবাহবিমুখতা বাড়লে তা সামাজিক ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সচেতনতার আহ্বান
বিশ্লেষকদের মতে, পরিবার ও বিবাহের গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করা জরুরি। সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিবারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা না গেলে ভবিষ্যতে সমাজ আরও জটিল সংকটে পড়তে পারে।
তারা বলেন, পরিবার শুধু একটি সম্পর্ক নয়; এটি ভালোবাসা, দায়িত্ব, সহমর্মিতা ও নৈতিকতার এক অনন্য বন্ধন। এই বন্ধনকে টিকিয়ে রাখাই একটি সুস্থ সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত।
লেখক: প্রিন্সিপাল, সেইফ এডুকেশন ইনস্টিটিউট