
অনুসন্ধানে অতিমুনাফার কারসাজির ইঙ্গিত
দৈনিক কালান্তর
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলা নববর্ষ মানেই বাঙালির ঘরে উৎসবের আমেজ, বিশেষ খাবারের আয়োজন। তবে এবার পহেলা বৈশাখে সেই আনন্দে ভাটা পড়েছে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে। বিশেষ করে সোনালি মুরগির দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে চাপে পড়েছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
একসময় বৈশাখের সকালে পান্তা-ইলিশ ছিল ঐতিহ্য, কিন্তু ইলিশের আকাশছোঁয়া দামে তা অনেকের নাগালের বাইরে। বিকল্প হিসেবে মুরগির ঝোল দিয়ে ভাতের পরিকল্পনাও এখন কঠিন হয়ে উঠছে সোনালি মুরগির দাম বৃদ্ধির কারণে।
এক মাসেই কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকার বেশি
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র এক মাস আগে ২৮০ থেকে ৩১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া সোনালি মুরগি এখন ৪১০ থেকে ৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে হঠাৎ করেই আমিষের অন্যতম এই উৎস মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী হাফিজুল করিম বলেন,
“ঈদের আগে ৩০০ টাকার আশপাশে ছিল। এখন ৪৪০ টাকা চাচ্ছে। অথচ ব্রয়লার মুরগির দাম তেমন বাড়েনি। শুধু সোনালির দামই এত বাড়ছে কেন?”
পাঁচ ধাপে বাড়ছে দাম
অনুসন্ধানে জানা গেছে, খামার থেকে ভোক্তার রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছাতে সোনালি মুরগিকে অন্তত পাঁচটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রতিটি ধাপেই যুক্ত হচ্ছে অতিরিক্ত মুনাফা, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর চাপ হয়ে পড়ছে।
এই চক্রের শুরুতেই রয়েছে পোলট্রি খাতের বড় করপোরেট কোম্পানিগুলো। তাদের পরপরই পাইকার, ডিলার, আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের মতো করে দাম বাড়িয়ে নিচ্ছেন। তবে দামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির দায় কেউই স্বীকার করছেন না; বরং একে অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।
বাচ্চার দাম বৃদ্ধিই মূল কারণ?
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে থাকা মুরগিগুলো ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেনা বাচ্চা থেকে বড় করা হয়েছে। সে সময় একদিন বয়সী বাচ্চার দাম ছিল ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা, যা এর আগে ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।
পোলট্রি খাতের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন,
“ফ্লুতে অনেক খামারে মুরগি মারা যাওয়ায় বাচ্চার চাহিদা বেড়ে যায়। চাহিদা বাড়লে দামও বাড়ে।”
ভোক্তার কষ্ট, বাজারে অস্বচ্ছতা
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু উৎপাদন খরচ নয়, সরবরাহ চেইনের বিভিন্ন স্তরে অস্বচ্ছতা ও অতিমুনাফার প্রবণতাই মূলত দামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে কাজ করছে।
তারা বলছেন, বাজারে কার্যকর নজরদারি না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে ভোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
উৎসবেও স্বস্তি নেই
পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে যখন মানুষ পরিবার নিয়ে আনন্দমুখর সময় কাটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন বাজারের এই অস্থিরতা সেই আনন্দকে ম্লান করে দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপণ্যের এই চাপ আরও বাড়তে পারে।