আশুলিয়ায় কান্দাইলে মাদক সন্ন্যাসীদের গুলিতে ওপর পক্ষের চারজন গুলিবিদ্ধ-আতঙ্কিত এলাকাবাসী

হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ার কান্দাইল রাজা বাদশা মার্কেটে এলাকায় মাদক সন্ত্রাসীদের গুলিতে ওপর পক্ষের চারজন গুলিবিদ্ধ, আতঙ্কিত এলাকাবাসী। ৫ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয়রা জানায়। এ ঘটনার নেপথ্যে আধিপত্য বিস্তারসহ মাদক ও অন্য বিষয় থাকতে পারে বলে তাদের দাবী। এদিকে গুলি করে দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬ইং) ভোর ৬ টার দিকে আশুলিয়ার চিত্রশাইল কান্দাইলের রাজাবাদশা মোড় এলাকায় এই গুলির শব্দ শোনা যায় বলে এমনটাই জানান স্থানীয়রা। এবিষয়ে পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তদন্ত করছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আহত আলামিন (৩০) ও পারভেজ (২২) এর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় হতাহতের মধ্যে আল-আমিন নামে একজন জানান, তিনি ঠিকাদার তার সাথে থাকা পারভেজ দোকানের কর্মচারী। তারা দুজনই জামগড়া এলাকায় থাকেন। পাওনা টাকা তুলে ভোরে দুজন মোটরসাইকেল যোগে বাসায় ফিরছিলেন। তখন মৃধা বাড়ি ঈদগাহ মাঠের সামনে আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে আসা ৪ জন দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে এবং তাদের কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে তাদের দুজনকে গুলি করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে পুরো বিষয়টি রহস্যজনক চারজন আহত হয়েছেন, গুলিবিদ্ধ আহতদের কেউ শিখিয়ে দিচ্ছে কারো নাম বলার জন্য, তারা বাপ্পি ওরফে শুটার বাপ্পির নাম বলতে শোনা যায়।

সালাম মৃধা নামে এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, ‘ভোর ৬টার দিকে এরকম একটি ঘটনা ঘটেছে শুনেছি। রাজাবাদশা মোড় এলাকার মার্কেট থেকে সামনের দিকে ঈদগাহ মোড়ে একটি হোটেল আছে সেখানে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি, ওই সময় হোটেল খোলা ছিলো। ওরা সব দেখেছে আর আমরা এলাকার অনেক মানুষই গুলির শব্দ শুনেছি। প্রায় পাঁচ বার শব্দ শুনেছি। আর লোকোমুখে শুনেছি। পারভেজ নামে একজন মোটরসাইকেল চালিয়ে গেছে ওই এলাকা থেকে। পারভেজকে এর আগে আমি ও কালাম মাদবরসহ মাদকসহ ধরে মাদবরের অফিসে নিয়ে গেছিলাম। ওর বাবার নাম ফালু। তার প্রধান ব্যবসা হচ্ছে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করা’। তবে ওই ঘটনায় কে যে, গুলি করেছে কাকে করেছে এটা আসলে কেউই বলতে পারেনা। তবে ঘটনার আগে তারা ওই হোটেলে খাওয়া দাওয়া করেছে’।

আনোয়ার হোসেন নামে আরও এক স্থানীয় জানান, ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে, সাটারে পাঁচটা গুলি করেছে, সাটারে পাঁচটি গুলির চিহ্ন আমরা দেখেছি, ওইখানে এখন পুলিশ আছে, ঘটনার পরপর সকালে পুলিশ এসেছে। ঘটনাস্থলে তিনজন পুলিশ এখানো বসা আছে, একজন এসআইকে সামনে দেখলাম আর দুজন কনস্টেবল দেখলাম। একজন ভিতরে বসা সে এসআই হতে পারে। আমি রানিং এ আসার সময় দেখে আসলাম ।

এ ঘটনায় হতাহত পারভেজের সাথে মুঠোফোন কথা হলে তিনি বলেন, ‘এখন পায়ের অবস্থা মোটামুটি ভালো, আমি আপাতত কারো সাথে যোগাযোগ করছিনা’। গুলি কি পায়ের নিচে অংশে লেগেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘হ্যা হ্যা ভাই’। এ বিষয়ে কোন অভিযোগ করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মায়ের সাথে কল দিয়ে কথা বলে দেখি কি করা যায়’। এ সময় তিনি বলেন, পরে ফোন দিয়ে আপনাদের সাথে যোগাযোগ করবো এবং বিস্তারিত জানাবো।

এদিকে, আশুলিয়ার “জামগড়া পুলিশ ক্যাম্প” এর ইনচার্জ মোঃ রাশেদ বলেন, রাজা-বাদশা মার্কেটটি যে আমাদের আওতাধীন ইয়ারপুর ইউনিয়নে পরেছে বিষয়টি জানতাম না, এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে এমন কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। ঘটনার সত্যতাও আছে কিনা জানিনা। তবে তদন্ত করে গুলাগুলির সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *