
দৈনিক কালান্তর
প্রকাশিত: সোমবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে একদিকে সামরিক হামলার হুমকি, অন্যদিকে আলোচনার বার্তা—দুই পথেই এগোচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পরস্পরবিরোধী অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে ‘সবকিছু উড়িয়ে দেওয়া এবং তেল দখল’ করা হবে। তবে একইসঙ্গে তিনি জানান, আলোচনায় আগ্রহীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা (অ্যামনেস্টি) ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্য এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মিশর, পাকিস্তান ও তুরস্ক ভূমিকা রাখছে। এমনকি কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিরা সরাসরি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করছেন। যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেছেন ইরানের তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি। তিনি বলেন, ট্রাম্প রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ক্রমশ ভারসাম্য হারাচ্ছেন।
রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিলেও একইসঙ্গে দাবি করেন, আলোচনা এগোচ্ছে এবং সোমবারের মধ্যে একটি সমঝোতার ‘ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে।
তবে ইরান এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছে। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা ও ফক্স নিউজ।