ছোট গুনাহকেও অবহেলা নয়, সতর্ক করলেন আলেমরা

দৈনিক কালান্তর
প্রকাশিত: রবিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৬

ধর্ম ডেস্ক: ‘গুনাহ’ শব্দটি বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত হলেও এর মূল উৎস ফারসি। বাংলায় এর সমার্থক শব্দ ‘পাপ’, যার অর্থ অন্যায়, দুষ্কৃতি বা কলুষতা। ইসলামি পরিভাষায় গুনাহ বলতে বোঝানো হয়—আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর আদেশ অমান্য করা এবং নিষিদ্ধ কাজ করা, তা প্রকাশ্যে হোক বা গোপনে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গুনাহ বোঝাতে আরবি ভাষায় বিভিন্ন শব্দ ব্যবহৃত হয়, যেমন—আল ইছম, আল খাত্বা, আল মাসিয়াহ, আল জুর্ম ও আয্-যান্ব। এসব শব্দের মধ্যে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকলেও মূল অর্থ একই—অবাধ্যতা ও অন্যায়।

পবিত্র কুরআনে মানুষের অন্তরের দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে মহান আল্লাহ বলেন, “মানুষের মন মন্দপ্রবণ, তবে যার প্রতি আল্লাহ দয়া করেন সে ছাড়া।” (সুরা ইউসুফ: ৫৩)। এ কারণে একজন মুমিনের জন্য সবসময় নিজের অন্তরকে পাপমুক্ত রাখার চেষ্টা করা জরুরি।

হাদিসে গুনাহ সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মুমিন ব্যক্তি তার গুনাহকে পাহাড়সম বড় মনে করে, যা তার ওপর ধসে পড়তে পারে। বিপরীতে পাপী ব্যক্তি তার গুনাহকে তুচ্ছ মনে করে। (সহিহ বুখারি)

আরেক হাদিসে ছোট ছোট গুনাহ থেকেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ, এসব ছোট গুনাহ জমতে জমতে একসময় বড় গুনাহে পরিণত হয় এবং মানুষের ধ্বংসের কারণ হতে পারে।

ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, ছোট গুনাহগুলো ধীরে ধীরে মানুষের ঈমান দুর্বল করে দেয় এবং মৃত্যুর সময় তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। একইভাবে ইমাম ইবনে কায়্যিম (রহ.) গুনাহের নানা কুপ্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, গুনাহ মানুষের অন্তরের নূর নিভিয়ে দেয়, রিজিক কমিয়ে দেয় এবং তাকে একাকিত্বের দিকে ঠেলে দেয়।

তিনি আরও বলেন, গুনাহগার ব্যক্তি আল্লাহ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে মানুষের ভিড়েও নিজেকে নিঃসঙ্গ অনুভব করে, যা দুনিয়ার কোনো বস্তু দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।

হাদিসে সাহাবিদের জীবন থেকে উদাহরণ টেনে দেখানো হয়েছে, তারা সামান্য গুনাহকেও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতেন এবং তা থেকে মুক্তির জন্য দ্রুত তওবা করতেন।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, গিবত, হিংসা, মিথ্যা, খেয়ানত, মা-বাবার অবাধ্যতা ও কুদৃষ্টির মতো গুনাহগুলোকে সমাজে অনেক সময় হালকাভাবে নেওয়া হয়। অথচ এগুলোই মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের বড় কারণ।

তারা বলেন, কোনো গুনাহই ছোট নয়। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত নিজের কাজের ব্যাপারে সচেতন থাকা, গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং ভুল হলে দ্রুত তওবা করা। এতে ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ই কল্যাণের পথে এগোতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *