দৈনিক কালান্তর
প্রকাশিত: রবিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৬
ঢাকা: সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে হামের সংক্রমণ। জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও শরীরে লালচে র্যাশসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন শত শত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যখাতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের (ডিজিএইচএস) ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জন সম্ভাব্য হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৬৫৪ জন।
একই সময়ে দেশে মোট ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জন নিশ্চিতভাবে হামের কারণে এবং ৯৮ জন সম্ভাব্য হামজনিত জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৮৭ জন সম্ভাব্য রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬০ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে এবং ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজ সকাল ৯টা থেকে দেশের ১৮টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলার ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভায় জরুরি ‘মিজলস-রুবেলা (এমআর)’ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে টিকা প্রদান করা হবে। এমনকি যারা পূর্বে টিকা নিয়েছে, তারাও এর আওতায় থাকবে।
সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জানান, ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপের (এনআইটিএজি)-এর সুপারিশের ভিত্তিতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সকল অভিভাবককে শিশুদের টিকা দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
সরকার আগামী ২১ মে’র মধ্যে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ৫ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৫টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডের ১০টি কেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করবে। এখানে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ রোধে দ্রুত ও ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।