বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তাপ

বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে
বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে

দৈনিক কালান্তর
প্রকাশিত: রবিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৬

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া-৬ সদর আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছেন।

রবিবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিএনপির পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং বিভিন্ন স্থানে অন্য দলের ব্যানার টাঙানোর ঘটনাও ঘটছে।” এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রেজাউল করিম বাদশা আরও বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো ধরনের উসকানিতে সাড়া দেবে না। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।

অন্যদিকে, শনিবার পৃথক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল অভিযোগ করেন, নির্বাচনি পরিবেশ দিন দিন অশান্ত হয়ে উঠছে। তার কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় প্রচার-প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “ব্যানার-ফেস্টুন ছেঁড়া, সভা পণ্ডের চেষ্টা এবং কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন, নিরপেক্ষ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ এবং নির্বাচনের আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন।

আসন্ন উপনির্বাচনকে ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *