ইরান-যুক্তরাষ্ট্রে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি, আলোচনায় নতুন অগ্রগতি

দৈনিক কালান্তর
প্রকাশিত: বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে টানা পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছে। ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে উভয় পক্ষ। এই সময়ের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

কূটনৈতিক এই অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তার মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পথ সুগম হয়েছে। পরবর্তী ধাপের বৈঠক ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ভবিষ্যতে ইরানে কোনো আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রাখা, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

এছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রস্তাব বাতিল, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান, অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং লেবাননের হিজবুল্লাহসহ ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের দাবিও জানানো হয়েছে।

সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। বিশ্ব তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবকাঠামোতে হামলা এবং চলমান সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ প্রস্তাবকে ‘বাস্তবায়নযোগ্য’ উল্লেখ করে বলেছেন, এটি ভবিষ্যতের একটি বড় শান্তি চুক্তির ভিত্তি হতে পারে।

তবে হোয়াইট হাউস এখনো এই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সেনা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

এদিকে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়। চুক্তি লঙ্ঘিত হলে তারা পুনরায় সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করা হলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীও প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখবে।” তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান প্রস্তুত।

সূত্র: রয়টার্স, এএফপি ও আল জাজিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *