
দৈনিক কালান্তর
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
ক্রীড়া ডেস্ক: রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তায় ভরা এক ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ১ রানে হারিয়েছে গুজরাট টাইটান্স। জয়ের জন্য শেষ ৩ বলে ৮ রান দরকার ছিল দিল্লির, কিন্তু নাটকীয় সমাপ্তিতে জয়ের হাসি হেসেছে গুজরাট।
দিল্লির জয়ের আশা জাগিয়ে তুলেছিলেন ডেভিড মিলার। প্রাসিধ কৃষ্ণার করা এক বল ১০৬ মিটার দূরে স্টেডিয়ামের বাইরে পাঠিয়ে সমীকরণ নামিয়ে আনেন ২ বলে ২ রানে। তবে শেষ দুই বলে তালগোল পাকিয়ে বসেন এই প্রোটিয়া তারকা।
পেনাল্টিমেট বলে রান নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা নেননি মিলার। ফলে শেষ বলে দরকার পড়ে ২ রান। স্লোয়ার বাউন্সারে ব্যাটে লাগাতে না পারলেও রান নিতে গিয়ে রানআউট হন কুলদীপ যাদব। উইকেটরক্ষক জস বাটলারের দুর্দান্ত থ্রোতে ভেঙে যায় স্টাম্প। ওয়াইডের আবেদনও খারিজ হলে নিশ্চিত হয় গুজরাটের জয়।
শেষ ওভারে নাটকীয়তা
শেষ দুই ওভারে দিল্লির দরকার ছিল ৩৬ রান। মোহাম্মদ সিরাজের ওভারে দুই ছক্কা ও এক চারে ২৩ রান তুলে ম্যাচে ফিরে আসে দলটি। শেষ ওভারে প্রয়োজন দাঁড়ায় ১৩ রান।
মিলারের পাশাপাশি ভিপরাজ নিগাম শুরুটা ভালো করলেও দ্রুত আউট হয়ে যান। এরপর মিলারের বড় ছক্কা ম্যাচে উত্তেজনা ছড়ায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় অধরা থেকে যায় দিল্লির।
গুজরাটের বড় সংগ্রহ
এর আগে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করে ২০ ওভারে ২১০ রান তোলে গুজরাট টাইটান্স। অধিনায়ক শুভমান গিল ৪৫ বলে ৭০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। ওয়াশিংটন সুন্দর ৩২ বলে ৫৫ এবং জস বাটলার ২৭ বলে ৫২ রান করেন।
এই ইনিংসে ৫টি ছক্কার মাধ্যমে টি-টোয়েন্টিতে ৬০০ ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করেন বাটলার।
রাহুলের লড়াই ব্যর্থ
২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লোকেশ রাহুলের ব্যাটে ভর করে লড়াইয়ে থাকে দিল্লি। ৫২ বলে ৯২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ওপেনিংয়ে পাথুম নিসাঙ্কা করেন ৪১ রান।
মাঝে চোট পেয়েও পরে নেমে ২০ বলে ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন মিলার। তবে শেষ মুহূর্তের ভুলে নায়ক হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি।
বোলিংয়ে রশিদের নিয়ন্ত্রণ
গুজরাটের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন রশিদ খান। ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
এই জয়ে তিন ম্যাচে প্রথমবারের মতো জয় পেল গুজরাট টাইটান্স। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচ জয়ের পর তৃতীয় ম্যাচে এসে হার দেখল দিল্লি ক্যাপিটালস।