
দৈনিক কালান্তর
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
ধর্ম ও জীবন: সুসম্পর্ক বজায় রাখা, পরস্পরের অধিকার আদায় করা এবং অন্যের উপকারে এগিয়ে আসা ইসলামে ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ককে একটি মানবদেহের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, দেহের একটি অংশে আঘাত লাগলে পুরো দেহ তা অনুভব করে।
কিন্তু বর্তমান সময়ে মানুষের সম্পর্কের চিত্র ভিন্ন। সামান্য ভুল বোঝাবুঝি, অহংকার কিংবা সন্দেহের কারণে অনেক সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই নিজেদের সঠিক মনে করলেও বাস্তবে হারিয়ে যাচ্ছে পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা ও আল্লাহভীতি।
ইসলাম এ সমস্যার কিছু ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান দিয়েছে, যা অনুসরণ করলে ভাঙা সম্পর্কও পুনর্গঠন সম্ভব।
ন্যায়ের ওপর অবিচল থাকা
মানুষ সাধারণত নিজের অবস্থানকেই সঠিক মনে করে এবং অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করতে চায় না। অথচ কোরআনের নির্দেশ হলো—নিজের বা আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধেও হলেও ন্যায়ের ওপর অটল থাকতে হবে।
উত্তম আচরণের মাধ্যমে বিরোধ মিটানো
কোনো অপমান বা কষ্টের প্রতিশোধ নেওয়ার প্রবণতা সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে। ইসলাম শেখায়, মন্দের জবাব উত্তম আচরণ দিয়ে দিলে শত্রুতাও বন্ধুত্বে পরিণত হতে পারে।
সন্দেহ ও গিবত থেকে বিরত থাকা
অনেক সম্পর্ক নষ্ট হয় অহেতুক সন্দেহ ও পরনিন্দার কারণে। ইসলাম এসব থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। কারণ ভিত্তিহীন ধারণা ও গিবত মানুষের মনে বিভেদ সৃষ্টি করে।
রাগ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব
অতিরিক্ত রাগ অনেক সম্পর্ক ভেঙে দেয়। হাদিসে বলা হয়েছে, প্রকৃত শক্তিশালী সেই ব্যক্তি, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
যোগাযোগ বজায় রাখা
ভুল বোঝাবুঝি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা সম্পর্কের বড় শত্রু। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, খোলামেলা আলোচনা হলে বিরোধ সহজেই মিটে যেতে পারে। ইসলাম তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখাকে নিরুৎসাহিত করেছে।
সচেতনতার প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পারস্পরিক সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ এবং আল্লাহভীতি বাড়ালে সমাজে ভাঙন কমবে। অভিযোগ না বাড়িয়ে বোঝাপড়া বাড়ানোই সুসম্পর্ক রক্ষার মূল চাবিকাঠি।
তারা বলেন, সম্পর্ক শুধু আবেগের বিষয় নয়; এটি নৈতিকতা, দায়িত্ব এবং মানবিকতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক গুরুত্বপূর্ণ বন্ধন। এই বন্ধন অটুট রাখাই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত।