
হেলাল শেখঃ বাংলাদেশে নতুন সূর্য ওঠার মধ্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। পুরনো বছরের সব জীর্ণতা আর সংকীর্ণতা পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে বাঁচার অনুপ্রেরণায় সেজেছে দেশ, সবার মাঝে নববর্ষের আনন্দ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) ভোরে রাজধানীর রমনার বটমূলে ছায়ানটের চিরায়ত সুরের মূর্ছনা এবং এর পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হওয়া বর্ণিল ‘বৈশাখী শোভাযাত্রার’ মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ।
এবারের নববর্ষে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’-এই প্রতিপাদ্য নিয়ে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
এই শোভাযাত্রার বিশেষ দিকগুলো হলো-পাঁচটি মূল মোটিফ, মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। ৩৫ জন শিল্পীর কণ্ঠে জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের পাশাপাশি ২০০ জন শিক্ষার্থী বহন করছেন লাল-সবুজের পতাকা।
চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ ও টিএসসি প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলায় এসে শেষ হয় এই বর্ণাঢ্য আয়োজন।
এর আগে ভোর সোয়া ছয়টায় রমনা পার্কের বটতলায় সম্মিলিত কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানটির মাধ্যমে শুরু হয় ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। ১৯৬৭ সাল থেকে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে অংশ নিতে ভোর থেকেই ঢল নামে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের।
ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, ভয়ের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে নির্ভয়ে গান গাওয়ার প্রত্যয় নিয়েই এবারের আয়োজন।
এবারের প্রভাতী আয়োজনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও লালন সাঁইয়ের গানসহ লোকসংগীতের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। বিগত বছরের গ্লানি মুছে একটি সাম্য ও ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আগত দর্শনার্থীরা।