মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে সরাসরি নিহত শিশু রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বজনদের সান্ত্বনা

জনপদের খবর

বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা

তারিখ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬ | সময়: রাত ১১:৩৯

ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির কোমলমতি শিক্ষার্থী সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে রাতে নিহতের বাসায় গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১০টার দিকে সরকারপ্রধান কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পল্লবীতে নিহত রামিসার বাসায় পৌঁছান। সেখানে তিনি শোকে পাথর হয়ে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের পরম মমতায় বুকে টেনে নেন এবং সান্ত্বনা দেন।

জানা গেছে, আজ রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জনগুরুত্বপূর্ণ সেই বৈঠক শেষ করেই তিনি অন্য কোথাও না গিয়ে সরাসরি পল্লবীতে রামিসার আবাসে ছুটে যান। সেখানে তিনি নিহত শিশুটির স্বজনদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং ঘটনার ভয়াবহতার বিবরণ শুনে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী রামিসার পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেন, এই বর্বরোচিত অপরাধের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

পাশে ছিলেন শীর্ষ মন্ত্রী ও প্রশাসনের কর্তারা

প্রধানমন্ত্রী যখন নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমানসহ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এর আগে আজ দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

নৃশংস সেই হত্যাকাণ্ডের পটভূমি

রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসাকে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীতে তাদের পাশের ফ্ল্যাটের এক ভাড়াটিয়া অত্যন্ত বর্বরোচিত উপায়ে হত্যা করে। পুলিশ ও এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, সকালে রামিসা বাসা থেকে বের হওয়ার পর প্রধান অভিযুক্ত লম্পট সোহেল রানা তাকে ফুসলিয়ে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যায় এবং পাশবিক নির্যাতন শেষে হত্যা করে।

পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ খাটের নিচ থেকে এবং বাথরুমে রাখা একটি প্লাস্টিকের বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তের স্ত্রী ও এই ঘটনার সহযোগী স্বপ্না আক্তারকে আটকে ফেললেও, মূল খুনি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। তবে রক্ষা হয়নি তার; ডিবি ও থানা পুলিশের ঝটিকা অভিযানে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল বুধবার খুনি সোহেল রানা ঢাকার আদালতে হাজির হয়ে নিজের পৈশাচিক অপরাধের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *