
জনপদের খবর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তারিখ: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬ | সময়: সকাল ০৯:৩১
মক্কা মোকাররমা: চরম ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং উৎসবমুখর পরিবেশে আজ বুধবার (২৭ মে) সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। ঈদের জামাত আদায়, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি এবং পবিত্র হজের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা পালনের মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোকন বা আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ (আরাফাতের ময়দানে অবস্থান) গতকাল মঙ্গলবার সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ঈদুল আজহার মূল আবহ শুরু হয়।
আরাফাতের ময়দানে কান্নার রোল ও ইবাদত
গত মঙ্গলবার জিলহজ মাসের নবম দিনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা প্রায় ১৬ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন। ভোর থেকেই শুভ্র ইহরামে সজ্জিত লাখো হাজির ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির) ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, এই আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের প্রধান ফরজ কাজ। সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নফল নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত এবং জিকির-আসকারে সময় অতিবাহিত করেন। বিগত জীবনের সব পাপ মোচন এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় অঝোর ধারায় কান্না ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন আল্লাহর এই মেহমানরা।
হজের খুতবায় বিশ্বশান্তি ও ঐক্যের ডাক
গতকাল দুপুরে ঐতিহাসিক মসজিদে নামিরা থেকে এবারের হজের মূল খুতবা প্রদান করেন মসজিদুল হারামের সম্মানিত ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুবিধার্থে এবারের খুতবা বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় সরাসরি সম্প্রচার ও অনুবাদ করা হয়।
খুতবায় ইমাম মুসলিম উম্মাহর পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধের সঠিক চর্চা এবং গোটা বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। খুতবা শ্রবণ শেষে হাজিরা এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করেন।
মুজদালিফায় রাতযাপন ও কোরবানি
সূর্যাস্তের পর হাজিরা মাগরিবের নামাজ না পড়েই আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে উন্মুক্ত প্রান্তরে রাত্রিযাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর (পাথর) সংগ্রহ করেন।
আজ বুধবার (১০ জিলহজ) সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে হজের ঈদুল আজহার দিনের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। পাথর নিক্ষেপ শেষে আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি করবেন হাজিরা। এরপর মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করে ইহরামের কাপড় ত্যাগ করবেন। সর্বশেষে কাবা শরিফ তাওয়াফ (তাওয়াফে জিয়ারত) ও সাফা-মারওয়া সায়ি করার মধ্য দিয়ে হজের প্রধান রোকনগুলো সম্পন্ন করবেন তারা।
ঈদের আনন্দ এবং হজের পবিত্রতা মিলিয়ে পুরো সৌদি আরবে এখন এক অভূতপূর্ব ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ বিরাজ করছে।