
জনপদের খবর
চট্টগ্রাম ব্যুরো
তারিখ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬ | সময়: সকাল ০৭:১৯
চট্টগ্রাম: বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এক শিশুকে ধ/র্ষ/ণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। ক্ষুব্ধ জনতা ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলা এই সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি একপর্যায়ে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে।
ঘটনার সূত্রপাত ও মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় এক শিশুকে ধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার রাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় জড়ো হতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বাধা দিলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। একপর্যায়ে এই সংঘর্ষের রেশ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে চারদিক থেকে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। অন্যদিকে, অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ টিয়ার শেল (কাঁদুনে গ্যাস) ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
দুই সাংবাদিকসহ গুলিবিদ্ধ ৩, থমথমে পরিস্থিতি
সংঘর্ষের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের ছররা গুলিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত দুই সাংবাদিকসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া ইটপাটকেল ও লাঠির আঘাতে উভয় পক্ষের আরও অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সূত্র। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাতেই এলাকায় অতিরিক্ত র্যাব (RAB) ও আর্মড পুলিশের (APBN) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। যৌথ বাহিনীর টহলের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও পুরো এলাকায় চরম থমথমে ভাব বিরাজ করছে।
চমেক হাসপাতালে মেয়র ডা. শাহাদাত
এদিকে, মধ্যরাতে ঘটনার খবর পেয়েই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি চিকিৎসাধীন আহত সাংবাদিক ও অন্যান্যদের শয্যাপাশে কিছু সময় অবস্থান করেন এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। মেয়র এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা এখনো ঘটনাস্থল ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। শিশু ধর্ষণের মূল অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।