নি*হ*ত -শিশু রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, বড় বোনের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব গ্রহণ

জনপদের খবর

বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা

তারিখ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬ | সময়: সকাল ০৮:৩৫

ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে নির্মমভাবে ধ*র্ষ*ণের পর নৃ*শংস হ*ত্যা*কাণ্ডের শিকার হওয়া দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের বাসায় গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শোকে পাথর হয়ে যাওয়া পরিবারটিকে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি নিহত রামিসার বড় বোনের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের যাবতীয় দায়িত্বভার নিয়েছেন সরকারপ্রধান।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিরপুর-১১ নম্বরে রামিসাদের ভাড়া বাসায় পৌঁছান। সেখানে তিনি নিহত শিশুর বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সান্ত্বনা দেন এবং এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার সুদৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই সাক্ষাতের বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাক্ষাৎকালে রামিসার শোকার্ত বাবার হাতে প্রধানমন্ত্রী আর্থিক সহযোগিতার অনুদান তুলে দেন। একই সঙ্গে রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের লেখাপড়া এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সম্পূর্ণ দায়িত্বভার প্রধানমন্ত্রী নিজের কাঁধে নিয়েছেন বলে তাঁর প্রেস উইং থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাশে ছিলেন শীর্ষ মন্ত্রীরা

প্রধানমন্ত্রী যখন শোকসন্তপ্ত পরিবারটির খোঁজখবর নিচ্ছিলেন, তখন তাঁর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, এই স্পর্শকাতর মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।

নৃ*শংস সেই হ*ত্যা*কাণ্ডের প্রেক্ষাপট

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে নিখোঁজ শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ খাটের নিচ থেকে এবং পরবর্তীতে বাথরুমের ভেতর একটি বালতি থেকে তার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এই রোমহর্ষক ও পৈশাচিক ঘটনার পর পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে মূল অভিযুক্ত ঘাতক সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে বুধবার আদালতে হাজির করা হলে, শিশু রামিসাকে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার কথা স্বীকার করে নিখুঁতভাবে জবানবন্দি দেয় খুনি সোহেল রানা।

সরকারপ্রধানের এই আকস্মিক সফর এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। তারা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নজরদারিতে এই শিশু হত্যার বিচার দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *