
জনপদের খবর
নিজস্ব প্রতিবেদক
তারিখ: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬ | সময়: সকাল ১০:৪৫
আঞ্চলিক ডেস্ক: দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ আর অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের। অবশেষে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী খরাইখালী আহম্মদীয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন ‘খরাইখালী-সোনাখালী’ সংযোগ ব্রিজের গোড়ার মাটি ভরাট ও টেকসই সংস্কার কাজ। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলেও দুপাশের সংযোগ সড়ক বা গোড়ায় চলাচলের উপযোগী রাস্তা না থাকায় এটি কার্যত কোনো কাজেই আসছিল না। অবশেষে ভাঙা গোড়ার সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের জোয়ার ফিরে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের সূত্রে জানা গেছে, খরাইখালী ও সোনাখালী—এই দুই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই ব্রিজটি। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, খরাইখালী আহম্মদীয়া মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক এবং সাধারণ ব্যবসায়ীসহ শত শত মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজের গোড়ার মাটি ধসে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল এবং সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন ছিল। ফলে একটি পাকা ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র গোড়ার রাস্তার অভাবে সাধারণ মানুষের পক্ষে এটি ব্যবহার করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। ঝুকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো বা বিকল্প দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হতো স্থানীয়দের।
বন্ধ ছিল যান চলাচল, ভোগান্তিতে রোগীরা
সংযোগ সড়ক না থাকায় এই পথে ভ্যান, রিকশা বা কোনো ধরনের জরুরি সেবা ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। বিশেষ করে এলাকার কোনো মানুষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়দের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হতো। খরাইখালী আহম্মদীয়া মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও বর্ষা বা সামান্য বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তির শিকার হতো। এই জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী।
স্বস্তি ফিরল জনমনে
ভুক্তভোগীদের দাবির মুখে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অবশেষে আজ সকাল থেকে ব্রিজের ভাঙা গোড়ায় বালু-মাটি ভরাট এবং গাইড ওয়াল দিয়ে টেকসই সংস্কার কাজের শুভ সূচনা করা হয়েছে।
সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের দীর্ঘদিনের একটা বড় কষ্ট দূর হতে যাচ্ছে। ব্রিজটা আছিল কিন্তু আমরা গোড়ার রাস্তার জন্য উঠতে পারতাম না। এখন কাজ শুরু হইছে, আমরা খুবই আনন্দিত। আশা করি দ্রুত কাজটা শেষ হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ অনেক সহজ হবে।”
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তদারকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগ ব্রিজের কাজ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে শেষ করা হবে, যাতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই মানুষ ও যানবাহন পুরোদমে এই ব্রিজের ওপর দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।