ঈদযাত্রায় ঘর থেকে বের ও যানবাহনে ওঠার দোয়া: নিরাপদে বাড়ি ফিরতে ইসলামের নির্দেশনা

জনপদের খবর

ইসলাম ও জীবন পাতা

তারিখ: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬ | সময়: সকাল ০৮:২

ঢাকা: প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা এলেই লাখ লাখ মানুষ নাড়ির টানে, প্রিয়জন ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কর্মস্থল ত্যাগ করে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে ছুটে যান। বাস, ট্রেন কিংবা লঞ্চ—যে মাধ্যমেই হোক না কেন, সবার মাঝেই থাকে বাড়ি ফেরার এক অন্যরকম তাগিদ ও উত্তেজনা। তবে এই ঈদযাত্রায় শারীরিক সতর্কতার পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশাসন ও দোয়া পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি। এতে করে যেমন মহান আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়, তেমনি পথিমধ্যের সব বিপদ-আপদ থেকেও নিরাপদ থাকা যায়।

ঘর বা কর্মস্থল থেকে বের হওয়ার দোয়া

ঈদে গ্রামে ফেরার উদ্দেশ্যে বাসা কিংবা অফিস থেকে বের হওয়ার সময় প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শেখানো দোয়াটি পাঠ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আবু দাউদ শরিফের হাদিস অনুযায়ী, এই দোয়াটি পাঠ করলে সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকা যায় এবং শয়তানের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। দোয়াটি হলো:

উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লাহি, তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা-হাওলা ওয়া লা-কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’

অর্থ: আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর ওপর নির্ভর করলাম। আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। (এই দোয়া পড়লে ফেরেশতারা বলেন: তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত, নিরাপদ ও সুরক্ষিত হলে।)

তাড়াহুড়ো নয়, যানবাহনে ওঠা নিয়ে সতর্কতা

সাধারণত বাস, ট্রেন বা লঞ্চ টার্মিনালে গেলে আমরা যানবাহনে ওঠার জন্য খুব তাড়াহুড়ো করি। অনেক সময় বয়স্ক মানুষ, শিশু কিংবা নারীদের খেয়াল না করেই ধাক্কাধাক্কি করে প্রথমে ওঠার চেষ্টা করি। আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে চলন্ত যানবাহনে লাফ দিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন। তাড়াহুড়োর কারণে নিজে বা পাশে থাকা ব্যক্তি পড়ে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। ইসলাম সবসময় শৃঙ্খলা ও অন্যের প্রতি সহমর্মিতা শেখায়। তাই পুরোপুরি থেমে থাকা অবস্থায়, ধীরস্থিরভাবে যানবাহনে ওঠা উচিত।

যানবাহনে ওঠার সুন্নাত আমল ও দোয়া

যানবাহনে ওঠার সময় কিছু সুন্নাত আমল রয়েছে, যা পালন করা মুস্তাহাব। যানবাহনে ওঠার সময় প্রথম পা রাখার সাথে সাথে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়া এবং সিটে বসার পর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পাঠ করা উত্তম।

এরপর তিনবার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ও তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নিচের দোয়াটি পড়া যেতে পারে, যা তিরমিজি শরিফে বর্ণিত হয়েছে:

উচ্চারণ: ‘সুবহানাকা ইন্নি জলামতু নাফসি জুলমান কাছিরান ফাগফিরলি ইন্নাহু লাইয়াগফিরুজ্জুনুবা ইল্লা আনত।’

সওয়ারি বা যানবাহনে বসার মূল দোয়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো বাহনে (উট, ঘোড়া ইত্যাদি, যা বর্তমান যুগের যেকোনো বাহনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) চড়তেন, তখন তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা যুখরুফ-এর ১৩ ও ১৪ নম্বর আয়াতটি দোয়া হিসেবে পাঠ করতেন।

উচ্চারণ: ‘সুবহানাল্লাজি সাখখারালানা হা-যা ওয়ামা কুননা লাহু মুকরিনীন। ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনক্বালিবুন।’

অর্থ: মহান পবিত্র তিনি, যিনি আমাদের জন্য এটাকে (বাহন) অধীন ও নিয়ন্ত্রিত বানিয়ে দিয়েছেন, নতুবা আমরা তো এটাকে বশ করতে সক্ষম ছিলাম না। একদিন আমাদের প্রভুর কাছে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে।

ঈদের এই আনন্দময় যাত্রা যেন কোনোভাবেই বিষাদে পরিণত না হয়, সেদিকে সবারই খেয়াল রাখা উচিত। মহান আল্লাহ তায়ালা সবাইকে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছার এবং পরিবার-পরিজনের সাথে সুস্থ অবস্থায় ঈদ উদযাপনের তাওফিক দান করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *