
দৈনিক কালান্তর
প্রকাশিত: বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরও সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সব সামরিক ইউনিটকে গুলি চালানো বন্ধের নির্দেশ দিলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন—এটি যুদ্ধের সমাপ্তি নয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশে সামরিক বাহিনী সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখবে। তবে শত্রুপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিলে তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান।
এ বিষয়ে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদও একই ধরনের অবস্থান জানিয়ে বলেছে, “এই যুদ্ধবিরতি যুদ্ধের শেষ নয়… আমাদের আঙুল এখনো ট্রিগারের ওপর আছে।”
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ করলে ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, এই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা হবে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের অনুরোধে ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, এই সিদ্ধান্তের মূল শর্ত হলো—ইরানকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিরাপদভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং এখন দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগোচ্ছে।
তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই সতর্ক অবস্থানে থাকায় আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এখনও অস্থির এবং যেকোনো সময় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।