
জনপদের খবর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তারিখ: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬ | সময়: সকাল ১০:৩০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে হঠাৎ করেই সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজার আবারও চরম অস্থির হয়ে উঠেছে। এই ভূরাজনৈতিক উদ্বেগের জেরে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত (ক্রুড) তেলের দাম লাফিয়ে বেড়ে পুনরায় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, আগামী জুলাই মাসে সরবরাহের চুক্তিতে থাকা ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ দশমিক ১২ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানি বাজারের এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ হলো বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়তে থাকা উদ্বেগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক পরিস্থিতি।
পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুঁশিয়ারি
সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় মার্কিন বাহিনীর একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলার মধ্য দিয়ে। ওয়াশিংটনের দাবি, মার্কিন বাহিনী ও আঞ্চলিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দুটি মাইন বসানো নৌযানে তারা হামলা চালিয়েছে।
এই হামলার পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক হামলা চলমান যুদ্ধবিরতির সমঝোতাকে সরাসরি লঙ্ঘন করেছে। কোনো ধরনের আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও তেহরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ছেলে মোজতবা খামেনি এক কঠোর বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না। তার এই সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টা আগেই মূলত মার্কিন বাহিনী ওই হামলা চালিয়েছিল।