
জনপদের খবর | নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তেই ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে শুরু হয়েছে চিরচেনা ভোগান্তি। বুধবার দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থেমে থেমে চলছে যানবাহন। দীর্ঘ যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উত্তরাঞ্চলগামী হাজার হাজার যাত্রী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের মির্জাপুর, করাতিপাড়া বাইপাস, আশেকপুর বাইপাস, রাবনা বাইপাস ও এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। সকালের দিকে যানজটের বিস্তৃতি প্রায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছালেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কিছুটা কমে আসে।
দীর্ঘ সময় বাসে আটকে থেকে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যের দিকে রওনা হতে দেখা গেছে। বাড়ি ফেরার তাড়ায় কেউ কেউ আবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক, পিকআপ ও বাসের ছাদে চড়ে যাত্রা করছেন।
নীলফামারীগামী যাত্রী হুমায়ন কবির এই প্রতিবেদককে বলেন, “দুপুর দুইটার দিকে গাজীপুর থেকে রওনা হয়েছি। কখন যমুনা সেতুতে পৌঁছাব, জানি না। ঈদ এলেই এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষের।”
নারায়ণগঞ্জ থেকে রংপুরগামী গার্মেন্টসকর্মী শরীফ বলেন, “রাত ৮টায় বাসে উঠেছি। এখনো গাড়ি অনেক পেছনে আটকে আছে। তাই কয়েকজন মিলে হেঁটে আশেকপুর এলাকায় চলে এসেছি। সামনে আরও কত যানজট আছে, বুঝতে পারছি না।”
যানজটের কারণ সম্পর্কে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও রাতভর বৃষ্টির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে যানবাহন বিকল হওয়ায় যান চলাচল আরও ব্যাহত হয়েছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও মাঠে রয়েছে। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, “যানজট নিরসনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। যাত্রীদের নিরাপদ ঘরে ফেরা নিশ্চিত করতে পুলিশের একাধিক টিম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছে।”
প্রতি বছর ঈদ এলেই এই মহাসড়কে যানজট নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। যাত্রীদের প্রত্যাশা, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে স্বস্তির সঙ্গে প্রিয়জনের কাছে পৌঁছাতে পারবেন তারা।