
জনপদের খবর
আদালত প্রতিবেদক | ঢাকা
তারিখ: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধ/র্ষ/ণের পর গলা কেটে হ/ত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। আজ বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন। নির্মম ও রোমহর্ষক এই জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আজ আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেন। সোহেল রানা স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ডের অনুরোধ করা হয় এবং একই সাথে তার স্ত্রী ও এই ঘটনার সহযোগী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন জানানো হয়।
আদালত সূত্র জানায়, আজ বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সোহেল রানাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানা থেকে এজলাসে তোলা হয়। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের খাসকামরায় আসামি নিজের অপরাধ স্বীকার করে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দেন। এর আগে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছিল এই নরপিশাচ।
কৌশলে ডেকে নিয়ে ফ্ল্যাটের ভেতর বর্বরতা
আদালতে পেশ করা পুলিশের আবেদন ও তদন্তের বিবরণ থেকে জানা গেছে, নিহত শিশু রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে নিজের বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে মিষ্টি মেয়েটিকে ফুসলিয়ে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।
পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রামিসার পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও না পেয়ে একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। সন্দেহ হওয়ায় অনেক ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। বাধ্য হয়ে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন স্বজনেরা।
মাথা বালতিতে, শরীর খাটের নিচে
ভেতরে ঢুকে তল্লাশির সময় ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে রামিসার মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে ওঠেন স্বজনেরা। শয়নকক্ষের খাটের নিচে নির্মমভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল তার রক্তাক্ত দেহটি। আর পাশের আরেকটি কক্ষে একটি প্লাস্টিকের বালতির ভেতর রাখা ছিল শিশুটির খণ্ডিত মাথা।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, নির্মমভাবে ধ/র্ষণের পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু রামিসার মাথা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলা হয়। শুধু তাই নয়, পৈশাচিক আক্রোশে তার সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। র/ক্তাক্ত বাথরুম থেকে টেনে এনে দেহটি খাটের নিচে ঢোকানো হয়।
বর্বরোচিত এই হ/ত্যা/কাণ্ড ঘটানোর পর ধূর্ত সোহেল রানা ঘরের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে অপরাধ করে পার পায়নি সে। প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি ও থানা পুলিশের তৎপরতায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে দ্রুত গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই নির্মম ও লোমহর্ষক হ/ত্যা/কাণ্ডটির সুষ্ঠু বিচার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।