
জনপদের খবর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তারিখ: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬ | সময়: দুপুর ০১:২৪
মক্কা মোকাররমা: সৌদি আরবে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। আজ সোমবার (২৫ মে) ভোররাত থেকেই ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র মক্কা নগরীর আকাশ-বাতাস। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান এখন হজের প্রথম ও প্রধান কেন্দ্র—তাঁবুর শহর হিসেবে পরিচিত ‘মিনা’র দিকে রওনা হয়েছেন এবং সেখানে সমবেত হচ্ছেন। আজ দুপুর পর্যন্ত হাজিদের মিনায় পৌঁছানোর এই প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে বলে জানিয়েছে সৌদি গেজেট।
ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুসারে, আজ ৮ জিলহজ জোহর থেকে শুরু করে পরদিন ৯ জিলহজ ফজর পর্যন্ত মিনায় অবস্থান করে মহান আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকা এবং মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা সুন্নাত। ইসলামের পরিভাষায় এই বিশেষ দিনটিকে ‘ইয়াওমুত তারভিয়া’ বলা হয়। এর মাধ্যমেই মূলত ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। তবে সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের কঠোর শৃঙ্খলা ও নিয়ম মেনে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হজযাত্রীরা গতকাল রবিবার রাতেই মিনায় নিজ নিজ তাঁবুতে পৌঁছে গেছেন।
মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও রাত্রিযাপন
হাজিরা আজ ৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে ফজর থেকে শুরু করে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায় করবেন এবং সেখানে রাত্রিযাপন করবেন। মিনায় অবস্থান ও ইবাদত-বন্দেগি শেষে আগামীকাল ৯ জিলহজ (মঙ্গলবার) ভোরে হাজিরা হজের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ রোকন আদায়ের লক্ষ্যে ‘আরাফাতের ময়দানে’র উদ্দেশে রওনা হবেন।
আরাফাতের ময়দান ও হজের খুতবা
আগামীকাল মঙ্গলবার আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে হাজিগণ একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। নামাজ শুরুর আগে ঐতিহাসিক ‘মসজিদে নামিরা’ থেকে এ বছর বিশ্ব মুসলিমের উদ্দেশ্যে হজের মূল খুতবা প্রদান করবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলী বিন আবদুল রহমান আল-হুজাইফি। খুতবা শ্রবণ ও দোয়া-ইস্তিগফারের পর হাজিরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানেই অবস্থান করবেন। ইসলামের বিধানানুসারে, আরাফাতের এই অবস্থানই হলো হজের মূল স্তম্ভ।
মুজদালিফায় রাত্রিযাপন ও কঙ্কর নিক্ষেপ
৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পরপরই হাজিরা আরাফাত থেকে ‘মুজদালিফা’র উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে পৌঁছে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন এবং উন্মুক্ত আকাশের নিচে খোলা মাঠে রাত্রিযাপন করবেন। সেখান থেকে শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর (পাথর) সংগ্রহ করবেন।
পরদিন ১০ জিলহজ (বুধবার) সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে পুনরায় মিনায় ফিরবেন এবং শুধুমাত্র বড় জামারায় গিয়ে শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। কঙ্কর নিক্ষেপ শেষ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় পশু কোরবানি দেবেন এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করে ইহরাম পরিচ্ছদ ত্যাগ করবেন।
হজের নিয়ম অনুযায়ী, ১০ ও ১১ জিলহজ মিনায় রাত কাটানো ওয়াজিব। এরপর ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে কঙ্কর নিক্ষেপ সম্পন্ন করতে না পারলে সেই রাতও হাজিদের মিনায় অবস্থান করতে হবে।
সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আনুমানিক ১৮ লাখ মুসলমান পবিত্র হজ পালন করছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এবার সাড়ে ৭৮ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজের এই পুণ্যময় কাফেলায় শরিক হয়েছেন। হাজিদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে মক্কা ও মিনার আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা ও আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।