
জনপদের খবর
সাংবাদিক আল আমিন কাজী | ঢাকা
তারিখ: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
ঢাকা: মেগাসিটি ঢাকার বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার ঘনত্ব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। শুষ্ক আবহাওয়া আর চারপাশের অনিয়ন্ত্রিত ধুলোবালির কারণে মেগাসিটির জনজীবন এখন ধোঁয়াটে কুয়াশার চাদরে ঢাকা। বাতাসে ক্ষতিকর সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় আজ বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। আন্তর্জাতিক পরিমাপে আজ ঢাকার বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘আইকিউএয়ার’ (IQAir)-এর রিয়েল-টাইম তথ্যানুযায়ী, রাজধানী ঢাকার বায়ুর মান সূচক বা একিউআই (AQI) স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১৫৩। বায়ুমান সূচকের এই স্কোর অনুযায়ী ঢাকার বাতাসকে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘরের বাইরে বের হওয়ার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষে লাহোর, ঢাকা পঞ্চম
মঙ্গলবার সকালে বিশ্বব্যাপী বায়ুদূষণের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক শহর লাহোর। শহরটির একিউআই স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ২৫০, যার অর্থ সেখানকার বাতাসের মান ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’। আইকিউএয়ারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বায়ুদূষণে এশিয়ার অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর বড় শহরগুলোও বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
১৭১ একিউআই স্কোর নিয়ে দূষণের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। ১৬৭ স্কোর নিয়ে আফ্রিকার দেশ উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা রয়েছে তৃতীয় স্থানে এবং ১৫৭ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু। এই তিনটি শহরের বাতাসের মানও ঢাকার মতোই ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর এর ঠিক পরপরই অর্থাৎ ১৫৩ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে আমাদের ঢাকা।
শীর্ষ দশে থাকা অন্য শহরগুলোর চিত্র
সকালের এই বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষ দশে থাকা অন্য শহরগুলোর বাতাসের মানের স্কোর ১০৭ থেকে ১৩২-এর মধ্যে ওঠানামা করছে। এই স্কোরগুলোকে মূলত সংবেদনশীল বা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ঢাকার স্কোর ১৫০ পার হয়ে যাওয়ায় তা সাধারণ সুস্থ মানুষের শরীরেও নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ি, আশপাশের ইটভাটার কালো ধোঁয়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের নির্গমন এবং নির্মাণ সামগ্রী উন্মুক্ত অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখার কারণেই ঢাকার বায়ুর মান প্রতিনিয়ত খারাপ হচ্ছে। বাতাসে ক্ষতিকর পিএম ২.৫ (PM2.5) কণার উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হাঁপানি, অ্যালার্জি ও ফুসফুসের নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
রাজধানীর বাতাসকে বাসযোগ্য রাখতে এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে নিয়মিত রাস্তায় পানি ছিটানো ও নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলোতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী।