রাজশাহীতে ভ্যাপসা গরমের দাপট: বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতায় ওষ্ঠাগত জনজীবন, বাড়ছে রোগবালাই

জনপদের খবর

সাংবাদিক আল আমিন কাজী | রাজশাহী

তারিখ: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

রাজশাহী: সিল্কসিটি রাজশাহীতে আবারও শুরু হয়েছে ভ্যাপসা গরমের তীব্র দাপট। গত দুই দিন ধরে তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্পের কারণে পুরো নগরজুড়ে চরম অস্বস্তি নেমে এসেছে। চৈত্র-বৈশাখের প্রখর রোদ না থাকলেও দিনভর গুমোট পরিবেশ আর অনবরত ঘামে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এই অঞ্চলের মানুষ।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকলেও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৭০ শতাংশেরও বেশি ছিল।

আবহাওয়াবিদেরা জানাচ্ছেন, থার্মোমিটারে পারদ খুব বেশি ওপরে না উঠলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে শরীর থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘাম ঝরছে। ঘাম সহজে না শুকানোর ফলে মানুষের শরীরে ক্লান্তিবোধ ও অস্বস্তি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।


রাস্তাঘাট ফাঁকা, ভোগান্তিতে শ্রমজীবী মানুষ

ভ্যাপসা গরমের তীব্রতায় দুপুরের দিকে রাজশাহী নগরীর ব্যস্ততম রাস্তাঘাটগুলো অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়ছে। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। তবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

শহরের এক বাসিন্দা আব্দুল করিম নিজের ভোগান্তির কথা জানিয়ে বলেন, “বাইরের গরমটা একদম সহ্য করা যাচ্ছে না। একটু বাইরে বের হলেই পুরো শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে। বাতাসের কোনো নামগন্ধ নেই। তীব্র গুমোটের কারণে কোনো কাজকর্মে মন বসছে না।”

ঘরে ঘরে বাড়ছে ডায়রিয়া ও জ্বর

আবহাওয়া পরিবর্তনের এই খামখেয়ালিপনায় রাজশাহীতে ঘরে ঘরে বাড়ছে গরমজনিত রোগবালাই। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইফতেখার বেলায়েত জানান, “এই ধরনের ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ডায়রিয়া, উচ্চ জ্বর, সর্দি-কাশি ও শরীরে পানিশূন্যতার প্রকোপ অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা এই সময়ে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে।” তিনি এই পরিস্থিতিতে সবাইকে প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ পানি বা খাবার স্যালাইন পান করা এবং যথাসম্ভব কড়া রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা, সেচের পরামর্শ

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় এমন ভ্যাপসা ও গুমোট আবহাওয়ায় মাঠের ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (BMDA) চেয়ারম্যান এবং কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন জানান, “যদি দ্রুত বৃষ্টি না হয়, তবে মাঠের শাকসবজি ও অন্যান্য চলতি ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এই মুহূর্তে ফসল রক্ষা করতে কৃষকদের জমিতে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত সেচ দিতে হবে এবং গাছের গোড়ায় যেন পর্যাপ্ত পানি ও আর্দ্রতা বজায় থাকে, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৈরী পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে ব্যক্তিগত সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। দুপুরের কড়া রোদে ছাতা ব্যবহার করা, সুতির হালকা পোশাক পরা এবং শিশুদের প্রতি বাড়তি নজর রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *