খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: এসি ও অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তীব্র আতঙ্ক

জনপদের খবর

সাংবাদিক আল আমিন কাজী | খুলনা

তারিখ: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

খুলনা: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার (২০ মে) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে হাসপাতালের প্রধান ভবনের তৃতীয় তলায় এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে রোগীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের দীর্ঘ সোয়া এক ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

যেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত

হাসপাতাল ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরের দিকে যখন বেশিরভাগ রোগী ও স্বজনেরা ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই প্রধান ভবনের তৃতীয় তলায় ইমারজেন্সি অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) পাশে অবস্থিত পোস্ট অপারেটিভ রুমে হঠাৎ করে আগুনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে ধোঁয়া দেখা গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।

মুহূর্তের মধ্যে লেলিহান শিখা চারপাশের রুমে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এতে ইমারজেন্সি অপারেশন থিয়েটার এবং পোস্ট অপারেটিভ রুমের মহামূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এসি ও অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, দিকবিদিক ছোটাছুটি

আগুন লাগার পরপরই তৃতীয় তলার ওই ইউনিটে থাকা এসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) এবং রোগীদের জন্য রাখা কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। ভোরবেলায় এমন বিকট শব্দ এবং চারদিকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়লে পুরো হাসপাতালজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

জীবন বাঁচাতে চিকিৎসাধীন সাধারণ রোগী, তাদের স্বজন এবং ডিউটিরত নার্স ও স্টাফরা আতঙ্কিত হয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেকেই সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসার চেষ্টা করেন। বয়স্ক ও সংকটাপন্ন রোগীদের নিয়ে স্বজনেরা চরম বিপাকে পড়েন।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট

অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। শুরুতে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এবং হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর জায়গা হওয়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে আরও ৬টি ইউনিট তাদের সাথে যোগ দেয়।

মোট ১০টি ইউনিটের সমন্বিত ও নিরলস চেষ্টায় প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা পর সকাল পৌনে ৮টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে আগুন পুরোপুরি নিভে গেছে এবং ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এবং আগুনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *