ক্ষমতার মোহ নয়, দুঃসময়ের বিশ্বস্ততা ও মানবিক রাজনীতির অনন্য নাম শিমুল বিশ্বাস

জনপদের খবর

হেলাল শেখঃ | ঢাকা

তারিখ: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুসময়ের কোকিলদের অভাব নেই। সুসময়ে যারা সামনে থাকেন, দুঃসময়ে তারাই সবার আগে গা ঢাকা দেন। তবে এর মাঝেও কিছু মানুষ আছেন, যারা ক্ষমতার চেয়ে আনুগত্য, আদর্শ ও মানবিকতাকে বড় করে দেখেন। বিগত দেড় যুগে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির কঠিনতম সময়ে এমন এক বিশ্বস্ততার নাম হয়ে উঠেছেন দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী, অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক বৈরিতার মাঝে যখন অনেকেই দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন, তখন শিমুল বিশ্বাস নীরবে, নিঃস্বার্থভাবে দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। উচ্চকণ্ঠ না হয়েও তিনি হয়ে উঠেছিলেন বিএনপির তৃণমূল ও শীর্ষ নেতৃত্বের নির্ভরযোগ্য সেতুবন্ধন।

ঐতিহ্যবাহী পরিবার ও ছাত্ররাজনীতি

পাবনার কুঠিপাড়ার এক বনেদি ও সমাজসেবী পরিবারে জন্ম শিমুল বিশ্বাসের। দাদা খ্যাতিমান ঠিকাদার আলহাজ আহেদ আলী বিশ্বাস এবং বাবা আজিজুল ইসলাম বিশ্বাসের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রেই তিনি পেয়েছেন মানবিকতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা।

শহীদ বুলবুল কলেজে টানা তিনবার ভিপি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার সাংগঠনিক দক্ষতার প্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে স্নাতক সম্পন্ন করে পাবনা বার অ্যাসোসিয়েশনে যোগ দেন তিনি। তবে শুধু আইনি পেশায় নিজেকে আটকে রাখেননি; শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি নিজ উদ্যোগে শ্রমিক ফেডারেশন ও পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন গড়ে তোলেন।

রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে সাফল্যের স্বাক্ষর

২০০২ সালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশনের (BIWTC) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শিমুল বিশ্বাস। তার সততা, দূরদর্শিতা ও দক্ষ প্রশাসনে চরম লোকসানে থাকা এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি অল্প দিনেই লাভের মুখ দেখে। নৌপথ সংস্কার থেকে শুরু করে ঢাকার সাথে পাবনার যোগাযোগ ব্যবস্থায় তার সেই সময়কার উদ্যোগ আজও সর্বমহলে প্রশংসিত।

দুঃসময়ের কান্ডারি

১৯৯৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপিতে যোগদানের পর থেকেই শিমুল বিশ্বাস বেগম খালেদা জিয়ার আস্থার প্রতীকে পরিণত হন। গত দেড় দশকে রাজনৈতিক মামলা, প্রশাসনিক চাপ বা ব্যক্তিগত চরম ঝুঁকি— কোনো কিছুই তাকে আদর্শ থেকে সরাতে পারেনি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভাষায়, “বিপদের দিনেই চেনা যায় আসল নেতা।” শিমুল বিশ্বাস সেই পরীক্ষায় শতভাগ উত্তীর্ণ এক লড়াকু সৈনিক।

রাজনীতির বাইরে এক বিশাল মানবিক অধ্যায়

রাজনীতির বাইরে তিনি এক বিশাল হৃদয়ের মানুষ। নিজ পরিবারের নামে প্রতিষ্ঠিত ‘আলহাজ আহেদ আলী বিশ্বাস মানব কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর মাধ্যমে তিনি প্রায় ১১০ একর জমি জনকল্যাণে দান করেছেন। এই বিশাল জমিতে গড়ে উঠেছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

শুধু তাই নয়, তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৩ হাজার ৬০০ গৃহহীন পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছে এবং কর্মসংস্থান হয়েছে ৩ হাজারের বেশি মানুষের। নির্মাণ করেছেন শতাধিক মসজিদ ও মাদ্রাসা।

সহধর্মিণী পারভীন আফরোজ তনুকে নিয়ে অত্যন্ত সাধারণ ও ছিমছাম জীবনযাপন করেন শিমুল বিশ্বাস। তিনি প্রমাণ করেছেন, রাজনীতি শুধু ক্ষমতার মঞ্চ নয়; এটি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি পবিত্র দায়িত্ব। স্বার্থনির্ভর এই সময়ে অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের মতো নির্মোহ, বিশ্বস্ত ও মানবিক নেতারাই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রকৃত সম্পদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *