
জনপদের খবর
ক্রীড়া প্রতিবেদক | সিলেট
তারিখ: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
সিলেট: সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের মধ্যকার রোমাঞ্চকর টেস্ট ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা মাঠে গড়িয়েছে। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন আরও ১১৯ রান, অন্যদিকে ঐতিহাসিক এক জয়ের স্বাদ পেতে স্বাগতিক বাংলাদেশের দরকার সফরকারীদের শেষ ৩টি উইকেট। সব মিলিয়ে সিলেট টেস্ট এখন এক শ্বাসরুদ্ধকর নাটকীয় পরিণতির অপেক্ষায়।
বৃষ্টির শঙ্কায় দেরিতে শুরু খেলা
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টায় খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে সকাল থেকেই সিলেটের আকাশে ছিল মেঘের আনাগোনা। বৃষ্টির শঙ্কায় আম্পায়াররা কিছুটা সময় পর্যবেক্ষণ করার পর সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে খেলা শুরুর নির্দেশ দেন। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট পর মাঠে গড়ায় রোমাঞ্চকর এই দিনের খেলা। এর আগে অবশ্য দুই দলের ক্রিকেটাররা মাঠে নেমে গা-গরম (ওয়ার্ম আপ) করে নেন।
নাহিদ রানার নিচু বাউন্সে শুরু
শেষ দিনের প্রথম ওভারটি করার দায়িত্ব পান বাংলাদেশের তরুণ গতির তারকা নাহিদ রানা। অত্যন্ত আগ্রাসী মেজাজে বল হাতে দৌড় শুরু করেন তিনি। তার করা ওভারের পঞ্চম বলটি পিচে পড়ে বেশ নিচু হয়ে আসে, যা দেখে ক্রিজে থাকা পাকিস্তানি ব্যাটার ও স্লিপে থাকা ফিল্ডাররাও কিছুটা চমকে যান। পঞ্চম দিনের পিচের এই অপ্রত্যাশিত আচরণ বাংলাদেশি বোলারদের কিছুটা আশাবাদী করে তুলেছে। দিনের প্রথম ওই ওভার থেকে পাকিস্তান মোট ৩ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।
ক্রিজে দেয়াল হয়ে আছেন রিজওয়ান
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাকিস্তানের সংগ্রহ ৮৭ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রান। ম্যাচটি এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে যেকোনো দলের পক্ষেই ফল যেতে পারে। জয়ের জন্য সফরকারীদের দরকার আর মাত্র ১১৯ রান। আর বাংলাদেশের দরকার মাত্র ৩টি ভালো বল বা উইকেট।
তবে বাংলাদেশ দলের জয়ের পথে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন ক্রিজে থাকা পাকিস্তানের অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। তিনি ৭৮ রান নিয়ে অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে ব্যাট করছেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছেন সাজিদ খান, যিনি ৮ রানে অপরাজিত আছেন।
টাইগার বোলাররা চাইছেন দ্রুত রিজওয়ানকে সাজঘরে ফিরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে। সকালে মেঘলা আবহাওয়া ও পিচের আচরণের সুবিধা নিতে পেসার ও স্পিনারদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বোলিং আক্রমণে আনছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত সিলেট টেস্টের এই স্নায়ুযুদ্ধে কারা শেষ হাসি হাসে—বাংলাদেশ নাকি পাকিস্তান! পুরো দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর চোখ এখন সিলেটের সবুজ গালিচার দিকে।