৮ ঘণ্টার মধ্যেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা ডিএসসিসি’র, প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ

জনপদের খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

তারিখ: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬ | সময়: সকাল ০৯:৪৫

ঢাকা: পবিত্র ঈদুল আজহায় নগরবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন, দুর্গন্ধমুক্ত ও আনন্দময় পরিবেশ উপহার দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কোরবানির বর্জ্য নিয়ে যেন নগরবাসীকে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সেজন্য ঈদের দিন দুপুরের পর থেকে পরবর্তী ৮ ঘণ্টার মধ্যে (দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৩০ মিনিট) সকল বর্জ্য অপসারণের একটি সুনির্দিষ্ট ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।

গতকাল সোমবার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে ঈদের প্রধান জামাতের সার্বিক প্রস্তুতি এবং কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

৮ ঘণ্টায় বর্জ্য অপসারণের মেগা প্ল্যান

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্জ্য দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে ডিএসসিসি একটি সুসংগঠিত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ঈদের দিন দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর কলাবাগান এসটিএস (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে বর্জ্য পরিবহনের কাজ শুরু হবে। প্রথম দিনের বর্জ্য রাত ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যেই পুরোপুরি অপসারণ করা হবে।

ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর ঈদের তিন দিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকায় মোট ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য উৎপন্ন হতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য দ্রুততম সময়ে পরিষ্কার করতে মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী সরাসরি মাঠে কাজ করবেন। বর্জ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হবে ট্রাক, কম্প্যাক্টর ও পে-লোডারসহ ২ হাজার ১১৭টি অত্যাধুনিক ভারী যান-যন্ত্রপাতি।

দুর্গন্ধ ও জীবাণু দমনে এবার ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল (পরিবেশবান্ধব পচনশীল) ব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে, যা বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ করবে।

প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ, প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়

ঈদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি প্রধান ঈদ জামাতের প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া কোনো কারণে বৈরী থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সকাল ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় ঈদগাহে এবার ১২১টি কাতারে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নির্বিঘ্নে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন। নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ আলাদা প্রবেশপথ, অযুথানা ও বিশেষ ব্যবস্থা। প্রচণ্ড গরমের কথা মাথায় রেখে মুসল্লিদের স্বস্তির জন্য পুরো প্যান্ডেলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) ও পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও রাখা হয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জল, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা। সার্বিক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সমন্বয় সম্পন্ন করেছে ডিএসসিসি।

কেন্দ্রীয়ভাবে সার্বক্ষণিক মনিটরিং

কোরবানির পশুর হাটের সার্বিক কার্যক্রম এবং বর্জ্য অপসারণের পুরো প্রক্রিয়াটি সরাসরি তদারকি করতে ডিএসসিসি দপ্তরে একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। সেখান থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। এ ছাড়া প্রতিটি পশুর হাটে আলাদা তদারকি টিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ডেডিকেটেড মেডিকেল টিম নিয়োজিত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *