সন্তানের মতো পরম যত্নে কোরবানির পশু লালন-পালন: ন্যায্যমূল্যের আশায় প্রান্তিক খামারিরা

জনপদের খবর নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা তারিখ: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬ | সময়: সন্ধ্যা ০৭:৩০

ঢাকা: পবিত্র ঈদুল আজহা কড়া নাড়ছে দুয়ারে। আর মাত্র কয়েকটা দিন পরই দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি করবেন। এ উপলক্ষে সারা দেশের পশুর হাটগুলো এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর। তবে এই উৎসবের পেছনে লুকিয়ে আছে দেশের লাখো প্রান্তিক খামারি ও কৃষকের বছরব্যাপী হাড়ভাঙা খাটুনি আর নীরব ত্যাগের গল্প। সন্তানের মতো পরম স্নেহে তারা লালন-পালন করেন একেকটি গবাদিপশু।

সম্প্রতি এমন একটি চিত্রই যেন ফুটে উঠেছে এক বয়োজ্যেষ্ঠ খামারির ছবিতে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এক বৃদ্ধ কৃষক পরম মমতায় তার পালিত গরুকে সতেজ সবুজ ঘাস খাওয়াচ্ছেন। কোরবানির হাটে তোলার আগে পশুর স্বাস্থ্য ও যত্নের কোনো ত্রুটি যেন না থাকে, সেদিকেই তার সতর্ক দৃষ্টি।

ঘাম ঝরানো পরিশ্রম ও আবেগ

খামারবাড়ি ও প্রান্তিক কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তারা সারা বছর ধরে পশু লালন-পালন করেন। সকালের আলো ফোটার আগে থেকেই শুরু হয় তাদের ব্যস্ততা। গোয়ালঘর পরিষ্কার করা, নির্দিষ্ট সময়ে পুষ্টিকর খাবার—যেমন কাঁচা ঘাস, খড়, ভুসি ও খৈল দেওয়া এবং নিয়মিত গোসল করানো—সবই তারা করেন নিজ হাতে। অনেক খামারি জানান, এই পশুগুলো শুধু তাদের আয়ের উৎস নয়, বরং পরিবারের একজন সদস্যের মতোই হয়ে ওঠে। তাই বিক্রির সময় যখন ঘনিয়ে আসে, তখন আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আনন্দের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সঙ্গীকে বিদায় জানানোর একটি চাপা কষ্টও তাদের ছুঁয়ে যায়।

দেশি গরুর চাহিদা ও ন্যায্যমূল্যের প্রত্যাশা

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর কোরবানির জন্য দেশে পর্যাপ্ত পশুর মজুত রয়েছে এবং এর বড় অংশই এসেছে দেশীয় খামারিদের কাছ থেকে। এবার ক্রেতাদের মাঝেও বড় আকৃতির গরুর চেয়ে মাঝারি ও দেশি জাতের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা রাসায়নিক ওষুধ ছাড়া সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করা এসব গরুর কদর হাটে সবসময়ই থাকে।

সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম শেষে প্রান্তিক কৃষকদের একটাই প্রত্যাশা—পশুর যেন ন্যায্যমূল্য মেলে। পশুখাদ্য ও ওষুধের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার গরু পালনে খরচ বেড়েছে। তাই হাটে ভালো দাম পেলে সারা বছরের ঋণ পরিশোধ করে পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়ে তারাও ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন।

সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পশুর হাটে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে এবং কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন শুধু কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখার অপেক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *