
জনপদের খবর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তারিখ: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
তেহরান: বিয়ের অনুষ্ঠান মানেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে আলো ঝলমলে রাজকীয় কোনো কমিউনিটি সেন্টার, ফুল ও রঙিন কাপড়ে সাজানো আকর্ষণীয় মঞ্চ কিংবা বিলাসবহুল লিমুজিন গাড়ির বহর। কিন্তু এবার এই চিরচেনা রূপকে একপাশে সরিয়ে রেখে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ও চমকপ্রদ এক বিয়ের সাক্ষী হলো বিশ্ববাসী। বিলাসবহুল গাড়ির পরিবর্তে সেখানে ছিল সামরিক সাঁজোয়া যান, আর ফুলের মঞ্চের জায়গায় স্থান পেয়েছে আস্ত যুদ্ধ ট্যাংক ও সারিবদ্ধ মিসাইল!
মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ইরানে সামরিক যান, অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং গোলাবারুদের বাক্সকে কেন্দ্র করে এমনই এক নজিরবিহীন ও অভিনব গণবিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) রাজধানী তেহরানে দেশটির সরকারের উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী বিয়ের আসর বসে। যেখানে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন ১ হাজার জোড়া তরুণ-তরুণী।
লিমুজিন নয়, বর-কনে এলেন সামরিক যানে
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোমবার তেহরানের এই বিশাল গণবিয়েতে ঐতিহ্যবাহী বিয়ের সব রীতিনীতিই পালন করা হয়েছে। তবে এর সাথে অত্যন্ত সুকৌশলে যুক্ত করা হয়েছিল তীব্র দেশাত্মবোধক প্রতীক। বর-কনেদের যাতায়াতের জন্য কোনো দামি বা আধুনিক গাড়ি ব্যবহার করা হয়নি; বরং তারা অনুষ্ঠানস্থলে আসেন সুসজ্জিত সামরিক যানে চড়ে। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে শোভা পাচ্ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা এবং দেশটির শীর্ষ নেতাদের প্রতিকৃতি।
গোলাবারুদের বাক্সে বসে বিয়ের শপথ
সবচেয়ে চমকপ্রদ ও রোমাঞ্চকর দৃশ্য ছিল বিয়ের মূল অনুষ্ঠানটি। গণবিয়ের এই আয়োজনে কোনো সাধারণ প্যান্ডেল বা কাঠের মঞ্চ ছিল না। বড় বড় সামরিক যান, যুদ্ধ ট্যাংক, সারি সারি সাজানো ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং যুদ্ধাস্ত্রের ওপরেই তৈরি করা হয়েছিল বিয়ের বিশেষ বেদিকা।
চলমান আঞ্চলিক সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধের ডামাডোলের আবহকে ফুটিয়ে তুলতে সেখানে এক বৈরী পরিবেশের আবহ তৈরি করা হয়। নবদম্পতিরা কোনো রাজকীয় সোফায় নয়, বরং সারি সারি সাজানো অস্ত্র ও গোলাবারুদের কাঠের বাক্সের ওপর বসে সারাজীবন একসাথে থাকার ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয়, বিয়ের ঐতিহ্যবাহী সাদা হিজাব ও গাউন পরা অনেক কনেকে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে হাতে রাইফেল বা অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে এই ব্যতিক্রমী ফটোসেশনে অংশ নিতে দেখা গেছে।
দেশপ্রেম ও সংহতির অভিনব প্রচার
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যে এই ধরনের আয়োজনের পেছনে বিশেষ রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা রয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানকে মূলত বর্তমান সামরিক সংঘাতের মধ্যেও জনগণের অটুট দেশপ্রেম, যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার দৃঢ় মনোভাব এবং সরকারের নীতি ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর সংহতির প্রতীক হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রচার করা হচ্ছে।
যুদ্ধ যে জীবনের স্বাভাবিক গতিকে থামিয়ে দিতে পারে না, বরং প্রতিকূলতার মাঝেও ভালোবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় হয়—তেহরানের এই ১ হাজার দম্পতি যেন পুরো পৃথিবীকে সেই বার্তাই দিয়ে গেলেন।