
জনপদের খবর
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে সাধারণ মানুষ ও চালকদের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেকেই। এই পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু চক্র গড়ে তুলেছে অবৈধ ব্যবসা—লাইনের সিরিয়াল বিক্রি, তেল মজুত ও খোলাবাজারে বেশি দামে বিক্রির মতো কর্মকাণ্ড এখন প্রকাশ্যেই চলছে।
লাইনের সিরিয়াল বিক্রি: নতুন ‘ব্যবসা’
ঢাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে তেল নিতে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। চালকদের ৫ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই দুর্ভোগ এড়াতে অনেকেই এখন লাইনের সিরিয়াল কিনছেন।
সম্প্রতি রাজধানীর একটি ফিলিং স্টেশনে মুসা আহমেদ নামের এক মোটরসাইকেলচালক ৫০০ টাকার বিনিময়ে অন্য এক চালকের কাছ থেকে সিরিয়াল কিনে নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকেও সিরিয়াল কেনাবেচার ঘটনা বেড়েছে।
খোলাবাজারে তেল বিক্রি
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বছিলা, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে মজুত করা তেল বোতলে ভরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় মুদি দোকান, গ্যারেজ এমনকি অলিগলিতেও চলছে এই বেচাকেনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি চক্র পাম্পের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহযোগিতায় তেল সংগ্রহ করে পরে বেশি দামে বিক্রি করছে। এক পাম্প কর্মচারীর ভাষ্য অনুযায়ী, পাম্প থেকে তেল নেওয়া প্রায় ২০ শতাংশ গ্রাহকই পরে তা মজুত করে বিক্রি করছেন।
অনলাইনে তেলের কালোবাজার
অবৈধ তেল বিক্রি এখন অনলাইনেও ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে পাম্পে প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১২০ টাকা, সেখানে খোলা বাজারে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনলাইন মার্কেটপ্লেসে এই দাম আরও বেশি দেখা যাচ্ছে।
ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে তেল কেনাবেচার পোস্ট নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই নির্ধারিত দামের দ্বিগুণ দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
সীমান্তে পাচার আতঙ্ক
শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারেই নয়, অবৈধভাবে মজুত করা তেল দেশের বাইরে পাচারের আশঙ্কাও বাড়ছে। বিশেষ করে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত অভিযানে মোট ৮৩,৫০৮ লিটার ডিজেল ও ৪,৮০০ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্বেগ বাড়ছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে এই অবৈধ বাণিজ্য আরও বিস্তার লাভ করতে পারে। এতে বাজারে অস্থিরতা বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও তীব্র হবে।
সরকারি নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই চক্র ভাঙার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।