
তারিখ: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
ফরিদপুর: ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী স্মৃতি আক্তারকে (২২) শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী শাহীন মীর মালতকে (৩৪) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাহীন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মাদকাসক্তি ও যৌতুকের বলি স্মৃতি
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের সাঘা বিশ্বাসের ডাঙ্গী গ্রামের মো. ফারুক মাতুব্বরের মেয়ে স্মৃতি আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের আজাহার মণ্ডলের পাড়া গ্রামের শাহীন মীর মালতের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই শাহীন মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে শুরু করেন। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ২০২১ সালে স্মৃতির পরিবার জামাতাকে প্রায় এক লাখ টাকা যৌতুক দেয়। কিন্তু এতেও সন্তুষ্ট হয়নি শাহীন। পরবর্তীতে আরও তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে সে স্মৃতির ওপর নির্যাতন অব্যাহত রাখে।
হত্যাকাণ্ড ও বিচার প্রক্রিয়া
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে রাতের কোনো একসময় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী স্মৃতি আক্তারকে ঘরের ভেতর শ্বাসরোধে হত্যা করে শাহীন। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মরদেহ ঘরের চৌকিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সে।
পরদিন সকালে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানা পুলিশ স্মৃতির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ নির্মম ঘটনার পর নিহতের বাবা ফারুক মাতুব্বর বাদী হয়ে ৩১ জানুয়ারি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন বিশ্বাস প্রধান আসামি শাহীন মীর মালতকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আজ আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এর মাধ্যমে যৌতুকের মতো একটি ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে সমাজে একটি শক্ত ও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে বলে আমরা মনে করি।”