সস্তা কিন্তু কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্রে চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ শক্তি

জনপদের খবর
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত মার্কিন যুদ্ধবিমান এখন ইরানের তুলনামূলক সস্তা কিন্তু কার্যকর অস্ত্রের মুখে নতুন ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ‘ম্যানপ্যাড’ (MANPADS) যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্র সহজে বহনযোগ্য, কম খরচে তৈরি এবং একক সৈনিক দিয়েই পরিচালনা সম্ভব। ইনফ্রারেড প্রযুক্তির মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুর তাপ অনুসরণ করে আঘাত হানতে সক্ষম হওয়ায় এগুলো শনাক্ত করা কঠিন। ফলে নিম্ন উচ্চতায় ওড়ার সময় যুদ্ধবিমানগুলো বিশেষ ঝুঁকির মুখে পড়ে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই এবং মার্কিন বিমান নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে একটি এফ-১৫ই ও একটি এ-১০ ওয়ার্থহগ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সৌদি আরবে মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন ইরানকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ম্যানপ্যাড সরবরাহ করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ রয়েছে। যদিও বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে তা অস্বীকার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি নয়, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এসব অস্ত্র সরবরাহ করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ইরানের পাহাড়ি ভূখণ্ড ম্যানপ্যাড ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ঝোপঝাড় বা পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে সহজেই নিম্ন উচ্চতায় উড়ন্ত বিমান লক্ষ্য করে হামলা চালানো সম্ভব। ফলে স্থল অভিযানে নামলে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া চীনের তৈরি কিউডাব্লিউ-২ ও কিউডাব্লিউ-১৮ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের হাতে থাকার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। একই সঙ্গে ইরানকে গোয়েন্দা স্যাটেলাইটসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রপথে চীনা অ্যান্টি-শিপ মিসাইল এবং আকাশে ম্যানপ্যাড—এই দুইয়ের সম্মিলিত হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধিপত্যকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
সামগ্রিকভাবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন এক জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে। উন্নত প্রযুক্তির দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে কম খরচের কার্যকর অস্ত্র ব্যবহারের কৌশল মার্কিন বাহিনীকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম (এনডিটিভি বিশ্লেষণ)