
জনপদের খবর
সাংবাদিক আল আমিন কাজী | সুজানগর (পাবনা)
তারিখ: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
পাবনা: পাবনার সুজানগর উপজেলার আমিনপুর থানার সাগরকান্দিসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে আঘাত হেনেছে প্রলয়ংকরী কালবৈশাখী ঝড়। ভয়ংকর এই ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে পুরো এলাকার চিত্র। ঝড়ের পাশাপাশি ভয়াবহ বজ্রপাতে সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামে ফরহাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
গত সোমবার সন্ধ্যায় বয়ে যাওয়া এই আকস্মিক ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য গাছপালা, কাঁচা-আধাপাকা ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন সাগরকান্দি ইউনিয়নের মানুষ।
লণ্ডভণ্ড ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি
সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার কালবৈশাখীতে সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দি ইউনিয়নের খলিলপুর এবং সাগরকান্দি বাজারসহ এর আশপাশের এলাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চোখের পলকেই বাতাসে উড়ে গেছে বাজারের একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চাল। কাঁচা ও টিনের বসতবাড়ি ভেঙে চরম নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। রাস্তার ধারের শত শত বড় গাছ উপড়ে পড়ে স্থানীয় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে দিশেহারা মানুষ
ঝড়ের তীব্রতায় বিভিন্ন স্থানে বিশালাকার গাছ বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর ভেঙে পড়ায় তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গত দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। পানীয় জলের সংকট থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজকর্মে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের আক্ষেপ: ‘কেউ পাশে দাঁড়ায়নি’
প্রলয়ংকরী এই ঝড়ের পর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া নিঃস্ব মানুষগুলো ত্রাণের আশায় পথ চেয়ে আছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীরা জানান, চরম এই বিপদের মুহূর্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের কেউ তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি, এমনকি সামান্য খোঁজখবরও নেয়নি।
প্রশাসনের বক্তব্য
সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সাগরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মনোয়ার হোসেন জানান, ঝড়ে সাগরকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় গাছ পড়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বহু মানুষের বসতবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তা থেকে গাছ সরিয়ে যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, “প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে প্রশাসন রয়েছে। উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে জমা দিতে বলা হয়েছে। এই তালিকা হাতে পাওয়ার পরই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে প্রয়োজনীয় সরকারি ত্রাণ ও সহায়তা প্রদান করা হবে।”