
জনপদের খবর
হেলাল শেখঃ | ঢাকা
তারিখ: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
ঢাকা: রাজধানী ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় বাংলামটর। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার যানবাহন ও লাখো মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বাংলামটর চৌরাস্তা সংলগ্ন বিভিন্ন সড়কে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার ঘটনা এখন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইন ভাঙার এই মহোৎসবের কারণে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি ও যন্ত্রণার মুখোমুখি হচ্ছেন পথচারী, অফিসগামী চাকুরিজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানী বাংলামটর চৌরাস্তা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। ব্যস্ততম এই সড়কের দুই পাশে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, যাত্রীবাহী বাস ও রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন দীর্ঘ সময় ধরে সারিবদ্ধভাবে পার্কিং করে রাখা হয়েছে। প্রধান সড়কের একটা বড় অংশ অবৈধ পার্কিংয়ের দখলে চলে যাওয়ায় রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এর ওপর অনেক চালক নির্ধারিত বাস স্টপেজ বা স্থানের বাইরে, মাঝরাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে হুড়োহুড়ি করে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছেন। ফলে এই মোড়টিতে সার্বক্ষণিক তীব্র যানজট লেগে থাকছে।
উল্টো পথে চলার প্রতিযোগিতা ও ফুটপাত দখল
বাংলামটরে যাতায়াতকারী একাধিক নিয়মিত যাত্রী ও চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ট্রাফিক আইন অমান্য করে অনেক যানবাহন অবলীলায় উল্টো পথে চলাচল করছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও রিকশাগুলোর মধ্যে উল্টো পথে যাওয়ার প্রতিযোগিতা সবচেয়ে বেশি। অনেকে আবার দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সিগন্যাল বা সংকেত না মেনেই হুটহাট গাড়ি চালিয়ে দিচ্ছেন। এতে করে পুরো মোড়জুড়ে যেমন তীব্র বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে, তেমনি প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটখাটো নানা দুর্ঘটনা।
ভোগান্তির শিকার কয়েকজন পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একদিকে সড়কের ওপর অবৈধ পার্কিং, অন্যদিকে ফুটপাতগুলোও বিভিন্নভাবে হকার ও দোকানের দখলে চলে গেছে। আমাদের হেঁটে চলার মতো কোনো জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষ করে সকালে অফিসের সময় এবং সন্ধ্যার পর এই এলাকার যানজট এতটাই তীব্র আকার ধারণ করে যে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।”
কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি
এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল দ্রুত অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ট্রাফিক আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, শুধু ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে এই বিশৃঙ্খলা থামানো যাবে না; যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
এ বিষয়ে বাংলামটর মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট জিল্লুর রহমানের সাথে কথা বলা হলে তিনি কিছুটা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “অবৈধ পার্কিং ও সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আমি গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে পারি না। আমাদের সিনিয়র স্যাররা আছেন, উনারাই এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে পারবেন।” তবে বক্তব্য যা-ই হোক, বাংলামটরের এই তীব্র জনদুর্ভোগ লাঘবে ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা নগরবাসীর।