
জনপদের খবর
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
তারিখ: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬ | সময়: দুপুর ০২:৪০
ঢাকা: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন স্থানে দায়ের হওয়া ‘ভুয়া মামলা’ এবং সেই মামলাগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একশ্রেণীর মহলের অনৈতিক অর্থ-বাণিজ্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। যারা এই ধরণের কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত, তাদের ভবিষ্যতের কঠিন পরিণতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে এক কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার (২০ মে) বিএনপির সাবেক এই শীর্ষ নেত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ও তীক্ষ্ণ পোস্টে এই ক্ষোভ উগরে দেন।
নিজের ফেসবুক দেয়ালে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা লেখেন— ‘ভুয়া মামলা দিচ্ছেন, বাণিজ্য করছেন, করতে থাকেন। পরিণতির জন্যও প্রস্তুত থাকবেন দয়া করে।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড়
জনপ্রিয় এই আইনজীবী ও প্রখর বক্তা রাজনীতিক তাঁর দেওয়া ওই ফেসবুক পোস্টে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করেননি। তবে দেশের বর্তমান গুমোট রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টটি আসার পরপরই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
পোস্টটি শেয়ার করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাজার হাজার নেটিজেন সেখানে নানামুখী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অধিকাংশ সাধারণ মানুষ ও আইনি বিশ্লেষকেরা মন্তব্য ঘরে রুমিন ফারহানার এই সাহসী বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেকে লিখেছেন, মামলাকে পুঁজি করে একশ্রেণীর অসাধু চক্র যেভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও অর্থ আদায় করছে, তার বিরুদ্ধে এখনই সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।
‘মামলা বাণিজ্য’ নিয়ে উদ্বেগ
সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ঢালাওভাবে নানা ভুয়া মামলা ও আসামি করার এক ধরণের প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। আর এই সুযোগে স্থানীয় কিছু টাউট ও প্রভাবশালী চক্র নাম বাদ দেওয়া বা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে অনৈতিক অর্থ-বাণিজ্য মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মতো একজন প্রথিতযশা আইনজীবী ও সংসদ সদস্যের এই স্ট্যাটাস মূলত সেই অনৈতিক ‘মামলা বাণিজ্যের’ দিকেই ইঙ্গিত করে এবং এটি অপরাধীদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। আইনি ব্যবস্থার এমন অপব্যবহার রোধে দেশের বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিকরা।