ঈদে জমজমাট আশুলিয়ার মার্কেট ও ফুটপাত: ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়ে উৎসবের আমেজ

হেলাল শেখঃ

আশুলিয়া (সাভার): আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঢাকার প্রধান শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জামগড়ার তৈরি পোশাক ও প্রসাধন সামগ্রীর বাজারগুলো এখন পুরোপুরি জমে উঠেছে। ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, স্থানীয় মার্কেট ও ফুটপাতগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ততই বাড়ছে। পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে জুতো কিংবা কসমেটিকস—পছন্দের জিনিসটি কিনতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

গত ৩-৪ দিন ধরে জামগড়ার বিভিন্ন বাজার ও শপিং মল ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত শপিং মলগুলোতে পা ফেলার জায়গা থাকছে না। তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক অধ্যুষিত এই এলাকায় বিশেষ করে দুপুরের পর এবং সন্ধ্যার দিকে ক্রেতাদের সমাগম ঢলে রূপ নেয়।

শপিং মল থেকে ফুটপাত—সর্বত্রই মানুষের ঢল

জামগড়া এলাকার নামী শপিং মল ‘রূপায়ন ভুঁইয়া এম্পোরিয়াম’, ‘জালাল প্লাজা’ ও ‘নিউ বঙ্গ মার্কেট’সহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে ক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। বাহারি ডিজাইনের জামাকাপড় ও জুতো কিনতে সকাল থেকেই ভিড় করছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে, ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোতেও নিম্নআয়ের ও মধ্যবিত্ত মানুষের কেনাকাটার ধুম লেগেছে। কম দামে ভালো জিনিস মেলায় অনেক পোশাক শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ ফুটপাত থেকে তাদের পছন্দের ঈদের পোশাক কিনছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ-উল আজহা মূলত পশুর হাটকেন্দ্রিক হলেও নতুন পোশাকের চাহিদা মোটেও কমেনি। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পোশাক, জুতো ও কসমেটিকস সামগ্রীর বিক্রি এখন তুঙ্গে।


ব্যবসায়ীদের মুখে হাসির ঝিলিক

রূপায়ন ভুঁইয়া এম্পোরিয়াম শপিং মলের পোশাক ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম তাঁর বিক্রির অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আমাদের পুরো মার্কেটটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) হওয়ায় তীব্র গরমের মধ্যেও ক্রেতারা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে এখানে কেনাকাটা করতে আসছেন। গত কয়েকদিন ধরে বেচাবিক্রি বেশ ভালো। তবে কেনাকাটার পাশাপাশি মার্কেটের ভেতরে ও সামনের খোলামেলা জায়গায় মানুষের এত ভিড় জমছে যে, দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন কোনো পার্কে দর্শনার্থীরা ঘুরতে এসেছেন।”

মার্কেটটির মালিকপক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ্ব বকুল ভুঁইয়া বলেন, “অন্যান্য ঈদের তুলনায় এবার কোরবানির ঈদকে ঘিরে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশ সন্তোষজনক দেখা যাচ্ছে। নামী ব্র্যান্ডের দোকানগুলোর পাশাপাশি সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফুটপাতের বেচাবিক্রিও চাঙ্গা। আমরা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থানে রয়েছি।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, পোশাক কারখানাগুলোর ঈদের ছুটি শুরু হলে এই ভিড় আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। আশুলিয়ার জামগড়াসহ চারপাশের বিপণিবিতানগুলোতে এই উপচেপড়া ভিড় ও আলোকসজ্জা পুরো শিল্পাঞ্চলে একটি দারুণ উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *