জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | ঢাকা
তারিখ: জুমাবার, ১২ জুন ২০২৬ | সময়: রাত ৮:৪৫ মিনিট
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর জেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক মৎস্য খামারিদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পারিবারিক পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে খামারিদের নিয়ে দিনব্যাপী এক মৎস্য চাষ প্রশিক্ষণ ও বিনামূল্যে মাছের পোনা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
আজ জুমাবার (১২ জুন ২০২৬) দুপুরে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স (দাবি) কর্মসূচির উদ্যোগে এবং ব্র্যাকের কৃষি ও বীমা ইউনিটের সার্বিক সহযোগিতায় স্থানীয় একটি মিলনায়তনে এই উন্নত মৎস্য চাষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণ পর্বটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর, জামালপুর রিজিওনের মোট ২৬টি শাখার প্রান্তিক মৎস্য চাষি সদস্যদের মাঝে আলাদা ১১টি সুনির্দিষ্ট বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ৮০ হাজার পিস উন্নত জাতের মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছের পোনা বিতরণ করা হয়।
এর আগে দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী প্রান্তিক মৎস্যজীবী ও খামারিদের আধুনিক, বৈজ্ঞানিক ও লাভজনক মৎস্য চাষের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্পর্কে বিস্তারিত এবং ব্যবহারিক ধারণা প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণে মূলত—আধুনিক পদ্ধতিতে পুকুর প্রস্তুতকরণ, মাছের সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা, মাছের বিভিন্ন রোগবালাই প্রতিরোধ ও তার প্রতিকার, দ্রুত বর্ধনশীল ‘ব্র্যাক তেলাপিয়া-২’ জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ, মাছের সঠিক আহরণ পদ্ধতি এবং তা দক্ষতার সাথে বাজারজাতকরণ বিষয়ক নানাবিধ যুগোপযোগী কৌশল শেখানো হয়।
খামারিদের মাঝে এই মাছের পোনা বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খামারিদের দিকনির্দেশনা দেন—জামালপুর ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মো. শফিকুল ইসলাম, ব্র্যাকের রিজিওনাল ম্যানেজার (দাবি) সিমসন হালদার এবং সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (কৃষি ও বীমা) এ.এস.এম মাহবুবুল আলম।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, এ.কে.এম শামসুল আলম, মো. হাফিজুর রহমান ও রাবেয়া খাতুনসহ স্থানীয় সুধীসমাজ ও প্রশিক্ষণার্থী খামারিরা।
বিনামূল্যে উন্নত জাতের এই মাছের পোনা ও আধুনিক প্রশিক্ষণ পেয়ে ব্র্যাকের প্রান্তিক সদস্যরা অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেন। অতিথিরা আশা প্রকাশ করে বলেন, এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আমিষের ঘাটতি পূরণ হবে এবং খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবেন।

মোঃ আল আমিন কাজী 

















