জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | ঢাকা
তারিখ: জুমাবার, ১২ জুন ২০২৬ | সময়: রাত ৭:৪২ মিনিট
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: নতুন প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে কোনো ধরনের প্রশ্ন ছাড়া ঢালাওভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া নৈতিকভাবে পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য ও অন্যায্য বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, সরকারের এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সৎ ও নিয়মিত করদাতারা কর দিতে চরমভাবে নিরুৎসাহিত হবেন, যা সামগ্রিকভাবে করদাতাদের মধ্যে এক বিরাট বৈষম্য তৈরি করবে।
আজ শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এই কড়া সমালোচনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানটির উচ্চপদস্থ গবেষক ও কর্মকর্তারা।
বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকা সাদা করার বিশেষ বিধানের তীব্র সমালোচনা করে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “এবারের বাজেটে নামমাত্র কর দিয়ে যেভাবে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে, তা মূলত সামাজিক নৈতিকতার চরম অবক্ষয় এবং দেশের সাধারণ সৎ করদাতাদের প্রতি এক ধরনের প্রকাশ্য অন্যায়। অন্যায্য, অবৈধ বা অপ্রদর্শিত উপায়ে অর্জিত অর্থকে এভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধ করার নিয়ম কোনো সভ্য অর্থনৈতিক কাঠামোয় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবী নাগরিকরা যেখানে তাঁদের রক্তপানি করা কষ্টের উপার্জনের ওপর প্রতি বছর উচ্চ হারে কর পরিশোধ করছেন, সেখানে কালো টাকার মালিকদের সামান্য পেনাল্টি বা বিশেষ ছাড় দেওয়া এক ধরনের মারাত্মক অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে। এটি মূলত কর ফাঁকি দেওয়া অপরাধীদের পুরস্কৃত করার শামিল। এর ফলে নিয়মিত করদাতাদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হবে এবং তারা কর ফাঁকি দিতে উৎসাহিত হতে পারেন, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাকে আরও বড় ঝুঁকিতে ফেলবে।”
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “রাজস্ব আহরণের যে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নতুন বাজেটে নেওয়া হয়েছে, তা পূরণ করতে হলে করের আওতা বাড়ানো এবং ফাঁকি রোধ করা জরুরি ছিল। কিন্তু কালো টাকা সাদা করার এই অনৈতিক সুযোগ বহাল রেখে সুশাসন নিশ্চিত করা অসম্ভব।” সংস্থাটির পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক বিধানটি প্রস্তাবিত বাজেট থেকে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়।

মোঃ আল আমিন কাজী 

















