জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | ঢাকা
তারিখ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ | সময়: সকাল ৮:১২ মিনিট
বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনা সদর উপজেলায় এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার ঘটনা ঘটেছে। তবে হামলার পরপরই স্থানীয় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে ইব্রাহিম হোসেন কালু নামের এক চিহ্নিত প্রধান হামলাকারী নিহত হয়েছেন। এ সময় গণপিটুনির শিকার হয়ে কালুর সহযোগী তৌহিদ নামের আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ১ নম্বর বদরখালী ইউনিয়নের পাতাঘাটা গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বদরখালী ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফার ওপর পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালায় ইব্রাহিম হোসেন কালু। সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গোলাম মোস্তফাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় মেম্বারের চিৎকার শুনে পাতাঘাটা গ্রামের ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে একজোট হয়ে হামলাকারীদের চারপাশ থেকে ধাওয়া করে।
গ্রামবাসীর তাড়া খেয়ে অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও প্রধান হামলাকারী কালু ও তাঁর সহযোগী তৌহিদকে ধরে ফেলে জনতা। পরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই কালু নিহত হন এবং তৌহিদ গুরুতর আহত হন।
এদিকে, স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় রক্তাক্ত ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকে উদ্ধার করে প্রথমে দ্রুত বরগুনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত ও জরুরি চিকিৎসার জন্য তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) স্থানান্তর করেন।
খবর পেয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশের একটি বড় দল দ্রুত পাতাঘাটা গ্রামের ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত কালুর মরদেহ উদ্ধার করে এবং গণপিটুনিতে আহত তৌহিদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ‘জনপদের খবর’-কে জানান, নিহত ইব্রাহিম হোসেন কালু এলাকায় একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে।
ওসি আরও জানান, গণপিটুনিতে গুরুতর আহত সহযোগী তৌহিদকে পুলিশি পাহারায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাতাঘাটা গ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটনে পুলিশের নিবিড় তদন্ত চলমান রয়েছে।

মোঃ আল আমিন কাজী 
















