
জনপদের খবর প্রতিবেদক: সাংবাদিক আল আমিন কাজী | ঢাকা তারিখ: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬ | সময়: বিকেল ০৩:৫৩ —
ঢাকা: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের প্রতিটি ক্রান্তিকালে জাতির জন্য মুক্তির দিশারি, আলোকবর্তিকা ও বাতিঘর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
আজ শনিবার (৩০ মে) দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের সামনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বাধীনতার ঘোষণা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, “১৯৭১ সালে যখন দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ছিল না, ঠিক সেই মুহূর্তে মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তাঁর সেই ঐতিহাসিক ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়ে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে দেশে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল, সব রাজনৈতিক দল ও সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। জিয়াউর রহমানই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য উন্মুক্ত রাজনীতির সুযোগ সৃষ্টি করেন।”
অপপ্রচার ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বিগত সরকার পরিকল্পিতভাবে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করেছে এবং জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক অবদানকে খাটো করতে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে অপপ্রচার চালিয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় দীর্ঘকাল কারাবন্দি রাখা হয়েছিল।
অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিতে জিয়াউর রহমানের যুগান্তকারী ভূমিকার কথা স্মরণ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “তিনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর নেতৃত্বেই দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যায়।”
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এই নীতির কারণেই তিনি জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে পেরেছিলেন। এমনকি ফারাক্কা বাঁধে পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার প্রশ্নেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন।
বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ও আইনজীবীদের প্রশংসা বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী নানা উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। সাধারণ মানুষের কল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।
বিএনপির দুঃসময়ে আইনজীবীদের অসামান্য ভূমিকার কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন তিনি। রিজভী বলেন, রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা, ঢালাও গ্রেপ্তার ও অমানবিক নির্যাতনের সময় আইনজীবীরাই ছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীদের অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল।
এ সময় কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম বদরুদ্দোজা বাদল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়াসহ বিএনপি এবং আইনজীবী অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।