ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে ৩ স্তরের নিরাপত্তা, আগামীকাল থেকে চলবে ৬৬ জোড়া ট্রেন: কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার

ঢাকা: পবিত্র ঈদুল আজহা তথা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নাড়ির টানে রাজধানী ছেড়ে গ্রামে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। ঈদ যাত্রার প্রথম দিকে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় তেমন একটা না থাকলেও, সময় যত গড়াচ্ছে ভিড় ও চাপ ততটাই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতি বছরই অনেককে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে দেখা যায়। তবে এবার ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ সম্পূর্ণ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ; গড়ে তোলা হয়েছে তিন স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়।

আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার কবির হোসেন নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। টিকিট ছাড়া কোনো যাত্রীকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

স্টেশন ম্যানেজার বলেন, “ঈদ ঘিরে মানুষ প্রিয়জনদের সাথে উৎসব কাটাতে বাড়ি যাচ্ছেন। আজ সকাল থেকে কোনো প্রকার জটিলতা ছাড়াই সুশৃঙ্খলভাবে ১১টি আন্তঃনগর ট্রেন এই স্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। যাত্রীদের যাত্রা যেন নিরাপদ হয় এবং কেউ যেন ট্রেনের ছাদে উঠতে না পারে, সেজন্য আমরা তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।”

২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট, দৈনিক ৭০ হাজার যাত্রী

কবির হোসেন জানান, ঈদে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করে এবং তাঁদের বিশেষ অনুরোধে ট্রেনের সর্বনিম্ন শ্রেণির মোট আসনের ২৫ শতাংশ ‘স্ট্যান্ডিং’ (আসনবিহীন) টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “রেলে আমাদের নিয়মিত আসন বিন্যাস অনুযায়ী প্রায় ৪৫ হাজারের মতো সিটের টিকিট আমরা দিচ্ছি। এর সাথে আসনবিহীন বা স্ট্যান্ডিং টিকিট মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০ হাজার টিকিট দেওয়া হবে। ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবেন।”

আগামীকাল থেকে নামছে ৬৬ জোড়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন

ঈদ যাত্রাকে আরও গতিশীল ও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে আগামীকাল শনিবার (২৩ মে) থেকে রেলওয়ের বিশেষ ট্রেন সার্ভিস পুরোপুরি চালু হচ্ছে। স্টেশন ম্যানেজার জানান, আগামীকাল থেকে সারা দেশে মোট ৪৩ জোড়া আন্তঃনগর এবং ২৩ জোড়া কমিউটার ট্রেন চলাচল করবে। অর্থাৎ প্রতিদিন মোট ৬৬ জোড়া ট্রেন যাত্রী পরিবহনে যুক্ত থাকবে।

কালোবাজারি ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

টিকিট কেনাবেচায় জালিয়াতি রোধে রেলওয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে কবির হোসেন যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সম্মানিত যাত্রীদের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, আপনারা দয়া করে কোনো কালোবাজারি বা অননুমোদিত ব্যক্তির কাছ থেকে টিকিট কিনবেন না। স্টেশনে কোনো দালাল চক্র যেন তাদের অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সেজন্য রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ছাড়াও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক সোচ্চার ও নিয়োজিত থাকবে।”

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এমন আগাম প্রস্তুতি ও কড়াকড়ির কারণে এবারের ঈদ যাত্রা অনেক বেশি নিরাপদ, নির্বিঘ্ন এবং টিকিট কালোবাজারিমুক্ত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সাধারণ রেলযাত্রীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *