রামিসা হ*ত্যা*র ক্ষোভের মাঝেই এবার নারায়ণগঞ্জে ৬ বছরের শিশুকে ধ*র্ষ*ণে*র অভিযোগ: আটক ১, পলাতক ১

নারায়ণগঞ্জ: রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে ধ/র্ষ/ণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যখন পুরো দেশ ক্ষোভে ও প্রতিবাদে উত্তাল, ঠিক তখনই নারায়ণগঞ্জে ৬ বছরের আরেক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে।

গতকাল শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দবাজার এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত দুই যুবক হলেন— আনন্দবাজার এলাকার মনির হোসেনের ছেলে হিরো (২২) এবং জামাল পাটোয়ারীর ছেলে সোহেল (২১)। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে ইতিমধ্যে আটক করতে সক্ষম হলেও অন্যজন এখনো পলাতক রয়েছে।

যেভাবে জানাজানি হলো ঘটনাটি

রাকিবুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, শুক্রবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটার পর শিশুটির মা প্রথম দিকে বিষয়টি আঁচ করতে পারেন। তবে লোকলজ্জা বা সামাজিক ভীতি থেকে শুরুতে তিনি কাউকেই কিছু বলেননি। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এবং সে তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই পুরো ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত দুই যুবকই এলাকায় চিহ্নিত মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। মাদকের সহজলভ্যতার কারণে তারা এমন বিকৃত মানসিকতার অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করছেন প্রতিবেশীরা। ঘটনার পর থেকেই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আনন্দবাজার এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি

ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, এই ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দুই ধরণের বক্তব্য পাওয়া গেছে। শিশুটির মায়ের দাবি, তার শিশু সন্তানকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী শিশুটি প্রাথমিকভাবে পুলিশকে জানিয়েছে যে, অভিযুক্ত দুজনের মধ্যে একজন তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল।

পুলিশ পরিদর্শক আরও জানান, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে এবং আইনি প্রক্রিয়া সচল রাখতে বর্তমানে শিশুটিকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে তার শারীরিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্টের সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনানুগ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি পলাতক থাকা অপর অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *