
জনপদের খবর হেলাল শেখঃ | সাভার (ঢাকা) তারিখ: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
সাভার (ঢাকা): ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া এলাকায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ গড়ে ওঠা দুটি অবৈধ সিসা (লেড) ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে কারখানা দুটিকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (১৮ মে) বিকেলে পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা জেলা কার্যালয় এবং সদর dপ্তরের মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট শাখার যৌথ উদ্যোগে এই মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
এক্সকাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অবৈধ স্থাপনা
অভিযান চলাকালীন পরিবেশের চরম ক্ষতিকারক এই দুটি কারখানার অবৈধ স্থাপনা ও চুল্লিগুলো ভারী এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে পিষে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সেখানে পরিচালিত সব ধরনের কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশ দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। উচ্ছেদ অভিযানের সময় কারখানা প্রাঙ্গণ থেকে বিপুল পরিমাণ পুড়িয়ে ফেলা বর্জ্য ও প্রায় এক ট্রাক পরিত্যক্ত ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছে।
প্রত্যন্ত এলাকায় বিষাক্ত ধোঁয়ার মরণফাঁদ
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে সাধারণত জনবসতিহীন ও প্রত্যন্ত এলাকা বেছে নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল এই বিষাক্ত কারখানা দুটি। সেখানে পুরনো ও পরিত্যক্ত ব্যাটারি গলিয়ে অস্বাস্থ্যকর উপায়ে সিসা (লেড) আহরণ করা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের শোধন প্ল্যান্ট বা আধুনিক নিরাপত্তা ছাড়াই উন্মুক্তভাবে সিসা গলানোর ফলে চারপাশের বাতাসে তীব্র মাত্রার বিষাক্ত ধোঁয়া ও রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ছিল। এতে আশপাশের এলাকায় মারাত্মক বায়ুদূষণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল।
যৌথ বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা
গুরুত্বপূর্ণ এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুন্নেছা আক্তার। এতে প্রসিকিউটর হিসেবে আইনগত দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক নয়ন কুমার রায়। উচ্ছেদ কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-৪) একটি যৌথ দল কড়া নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাভার ও এর আশপাশের এলাকায় পরিবেশ দূষণকারী ও লাইসেন্সবিহীন কোনো অবৈধ প্রতিষ্ঠানকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও পরিবেশ রক্ষায় এই ধরনের ক্ষতিকর ও অবৈধ ব্যাটারি গলানো সিসা কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।