
জনপদের খবর
সাংবাদিক আল আমিন কাজী | শেরপুর
তারিখ: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
শেরপুর: কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন কিংবা দালালের তদবির ছাড়াই সম্পূর্ণ মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। শেরপুর জেলায় শূন্য পদ অনুসারে বিদ্যমান সরকারি কোটা ও যথাযথ নিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করে এই ফল প্রস্তুত করা হয়।
সোমবার (১৮ মে) রাত ৯টার দিকে শেরপুর পুলিশ লাইন্স মাল্টিপারপাস শেডে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার এবং টিআরসি নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি এ, কে, এম জহিরুল ইসলাম।
আবেগাপ্লুত প্রার্থী ও অভিভাবক, ফুঁপিয়ে কান্না
পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার সাথে সাথেই অনুষ্ঠানস্থলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কোনো প্রকার টাকা-পয়সা কিংবা রাজনৈতিক সুপারিশ ছাড়া শুধুমাত্র নিজেদের মেধার জোরে সরকারি চাকরি পাওয়ায় আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন উত্তীর্ণ প্রার্থীরা। অনেক দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকেরা চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। তাৎক্ষণিক অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কয়েকজন অভিভাবক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আজকের দিনেও যে এক টাকা খরচ না করে পুলিশের চাকরি পাওয়া যায়, তা আমাদের কল্পনাতেও ছিল না। প্রশাসনকে ধন্যবাদ আমাদের সন্তানদের মেধার মূল্যায়ন করার জন্য।”
ফলাফল ঘোষণার পর চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের শেরপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানান পুলিশ সুপার। এ সময় তিনি নবীন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা যেভাবে সম্পূর্ণ সততা ও মেধার মাধ্যমে আজ পুলিশ বাহিনীতে যুক্ত হলেন, ঠিক একইভাবে কর্মজীবনেও সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দেশসেবার ব্রত নিয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন।”
২৫ জনের বিপরীতে লড়েছেন ২ সহস্রাধিক চাকরিপ্রার্থী
শেরপুর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলায় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদের জন্য মোট ২৫টি প্রকৃত শূন্য পদ ছিল। এই পদের বিপরীতে প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং শেষে ২ হাজার ১৯২ জন চাকরিপ্রার্থী প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নেন।
শারীরিক যোগ্যতার কঠিন ধাপগুলো পেরিয়ে ৩৯৩ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় বসার সুযোগ পান। লিখিত পরীক্ষার খাতা কঠোরভাবে মূল্যায়নের পর মাত্র ৮৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক বা ভাইভা পরীক্ষার জন্য মনোনীত হন। সর্বশেষ চূড়ান্ত ভাইভা শেষে মেধা তালিকায় শীর্ষ থাকা ৩ জন নারী ও ২২ জন পুরুষসহ মোট ২৫ জনকে প্রাথমিকভাবে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে আরও ৫ জন প্রার্থীকে অপেক্ষমাণ (ওয়েটিং) তালিকায় রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
নিয়োগ বোর্ডের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শেরপুর টিআরসি নিয়োগ বোর্ডের সম্মানিত সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোরশেদা খাতুন এবং নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম।
এছাড়াও শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ মিজানুর রহমান ভূঁঞা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার, শেরপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি রফিক মজিদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ হাসান বাদল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেরাজ উদ্দিনসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।