
জনপদের খবর
প্রতিবেদক: সাংবাদিক আল আমিন কাজী | আশুলিয়া (সাভার)
তারিখ: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬ | সময়: সকাল ১০:৪৫
আশুলিয়া, সাভার: টানা বৃষ্টি, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ এবং মহাসড়কের বেহাল দশার কারণে সাভারের আশুলিয়া বাইপাইল এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এই অংশে মাত্র ১৯ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেই চালক ও যাত্রীদের সময় লেগে যাচ্ছে ঘণ্টারও বেশি। আজ বুধবার (২৭ মে) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নবীনগর থেকে বাইপাইল পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে এমন স্থবির চিত্রই দেখা গেছে।
সকালের টানা বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। তবে রাজধানী থেকে বের হওয়ার পথে গাবতলী থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক গেট পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু নবীনগর পয়েন্টে এসেই থমকে যাচ্ছে সব ধরনের গাড়ি। নবীনগর থেকে শুরু হওয়া এই যানজটের লেজ পেছনের দিকে বিস্তৃত হয়ে ঢাকার মহাসড়কের সাভারের বিষমাইল পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে বৃষ্টির তীব্রতার মধ্যেই ঢাকা-টাঙ্গাইলমুখী যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে থাকে। ফলে পরিস্থিতি রীতিমতো নাজুক হয়ে পড়ে। নবীনগর থেকে বাইপাইল হয়ে এই যানজট শ্রীপুর এবং গাজীপুরের চন্দ্রা পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঈদযাত্রায় ঘরমুখো শিশু, নারী ও বয়স্ক যাত্রীরা।
যানজটের কারণ সম্পর্কে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনার কারণেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত বেহাল, যার ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও যান চলাচল স্বাভাবিক করতে মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।”
অন্যদিকে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম যানজটের জন্য বৃষ্টি ও খানাখন্দকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “তীব্র বৃষ্টির কারণে সড়কে পানি জমে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে যানবাহনের গতি কমে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি আমাদের প্রকল্প থেকেও দেড় শতাধিক নিজস্ব জনবল মহাসড়কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি কমলে এবং রাস্তার পানি নেমে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আপাতত এই রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।