
জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | ঢাকা
তারিখ: মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ | সময়: সন্ধ্যা ৬:৪৫ মিনিট
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালপুর (টাঙ্গাইল): টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরসভা সংলগ্ন বৈরাণ নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা উপজেলার অন্যতম প্রধান শোভাবর্ধনকারী ও ঐতিহাসিক কৃষ্ণচূড়া গাছটি আজ ঝড়ে উপড়ে পড়েছে। তীব্র ঝড়ো হাওয়া ও কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিশালাকৃতির এই সুদৃশ্য গাছটি মূলোৎপাটিত হয়ে মাটিতে মিশে গেছে। গাছটি হারিয়ে যাওয়ায় এলাকার সৌন্দর্যপিপাসু ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মনে এক অন্যরকম কষ্টের আবহ তৈরি হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) সকালে গোপালপুর উপজেলার ওপর দিয়ে আচমকা বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত ও তীব্র ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। ঝড়ের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা ভেঙে বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের ওপর পড়লে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে এই ঝড়ে সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে গোপালপুরবাসীর আবেগের জায়গা—পৌরসভা সংলগ্ন সুদৃশ্য কৃষ্ণচূড়া গাছটির ওপর। বাতাসের তীব্রতা সইতে না পেরে গাছটি শিকড়সহ উপড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এই কৃষ্ণচূড়া গাছটি ছিল অনন্য সৌন্দর্যের এক বাস্তব প্রতীক। বৈরাণ নদীতীরবর্তী এই স্থানটিতে গাছটি গোপালপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিসহ মনোরম পরিবেশ সৃষ্টিতে দীর্ঘকাল ধরে ভূমিকা রেখে আসছিল। ডালপালার শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত বিশালাকৃতির এই গাছের শীতল ছায়া ছিল এলাকার খেটে খাওয়া কায়িক পরিশ্রমী মানুষ ও পথচারীদের ক্লান্তি নিবারণের একমাত্র আশ্রয়স্থল। গরমের দিনে অনেকেই এখানে এসে একটু শান্তির নিঃশ্বাস ফেলতেন।
গোপালপুর উপজেলাটি এমনিতেই ২০১ গম্বুজ মসজিদ ও ঐতিহাসিক হেমনগর জমিদার বাড়ির কারণে বেশ পরিচিত। ফলে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে এখানে। আগত পর্যটকদের চোখেও এই লাল টকটকে কৃষ্ণচূড়া গাছটি নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের আবহ তৈরি করত। গাছটির নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের সুবাদে এটি দেশ-বিদেশেও বেশ সমাদৃত ছিল।
দুর্ঘটনার পর দুঃখ প্রকাশ করে প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “গাছটি শুধু একটি উদ্ভিদ ছিল না, এটি আমাদের গোপালপুরের সৌন্দর্যের একটা বড় অংশ ছিল। গ্রীষ্মকালে যখন পুরো গাছ লাল ফুলে ভরে উঠত, তখন চোখ জুড়িয়ে যেত। গাছটি এভাবে হারিয়ে যাবে আমরা ভাবতেও পারিনি।”
আলোচনার একপর্যায়ে স্থানীয়রা দাবি তোলেন, বৈরাণ নদী তীরবর্তী এই গোপালপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখতে নদীটি খনন করা জরুরি। একই সঙ্গে এর দুই পাড়ে ফলদ, ওষধি, বনজ এবং এমন পুষ্প-শোভাবর্ধনকারী নতুন নতুন বৃক্ষরোপণ করা হোক, যেন গোপালপুরকে আবারও একটি সবুজ, ছায়া-সুশীতল ও রূপময় শহর হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

মোঃ আল আমিন কাজী 





















