জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | ঢাকা
তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ | সময়: রাত ৮:৫২ মিনিট
চবি প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও গ্রেড-১ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩-এর ১৪(১) ধারা অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে আগামী চার বছরের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়। গত মঙ্গলবার (৯ জুন) অপরাহ্নে তিনি নতুন এই প্রশাসনিক দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, সদ্য বিদায়ী উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. কামাল উদ্দিন, বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, আবাসিক হলের প্রভোস্টবৃন্দ, প্রক্টর, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। অনুষ্ঠানে নতুন উপ-উপাচার্যকে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন দেশের বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণার ক্ষেত্রে অন্যতম অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব এবং শীর্ষস্থানীয় পরিবেশ বিজ্ঞানী হিসেবে সুপরিচিত। শিক্ষা, উচ্চতর গবেষণা, অ্যাকাডেমিক প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করাসহ দীর্ঘ ৩৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে অনন্য পেশাগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য পদে দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক পূর্ব পর্যন্ত তিনি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ‘ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস’ থেকে বন-বাস্তুতন্ত্র ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশন ও জিআইএসভিত্তিক গবেষণার ওপর সফলভাবে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
এছাড়া জার্মানির ‘ইউনিভার্সিটি অব গটিঙ্গেন’-এ পপুলেশন জেনেটিক্স ও আইসোজাইম স্টাডিজ বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে বিশ্বখ্যাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা’ থেকে বন অভিযোজন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৩১ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি শুরুর দিকে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI)-এ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সিইউর বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, আইএফইএসসিইউ (IFESCU)-এর পরিচালক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, মাস্টারদা সূর্যসেন হলের প্রভোস্ট এবং প্ল্যান্টেশন কো-অর্ডিনেটরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
জলবায়ু পরিবর্তন, আধুনিক বন ব্যবস্থাপনা, রিমোট সেন্সিং, জিআইএস (GIS), কার্বন সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক আল-আমীনের প্রধান গবেষণার ক্ষেত্র। তিনি ইউএসডিএ (USDA) অর্থায়িত বিখ্যাত “Climate Change and Forest Adaptation” প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। পাশাপাশি জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP), বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংস্থার গবেষণা ও কৌশলগত উন্নয়ন প্রকল্পে সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন।
পেশাগত জীবনে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন এ পর্যন্ত পরিবেশ বিষয়ক ৬টি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন। এছাড়া তাঁর ৬০টিরও বেশি উচ্চমানের গবেষণা প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য ও সমাদৃত পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বিশ্বজুড়ে ৩৫টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সেমিনার ও কর্মশালায় বাংলাদেশের হয়ে মূল গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন। তাঁর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এ পর্যন্ত ১৫০টিরও বেশি উচ্চতর গবেষণা থিসিস ও অ্যাকাডেমিক প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এই শিক্ষাবিদ ব্যাপকভাবে সমাদৃত। তিনি এশিয়া-প্যাসিফিক ফরেস্ট্রি এডুকেশন কো-অর্ডিনেশন মেকানিজম (APFECM) এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাসোসিয়েশন অব ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউশনস (APAFRI)-এর নির্বাহী কমিটির নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তা ছাড়া বাংলাদেশ সরকারের REDD+ জাতীয় কমিটির বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে সুইডেনের উমেও (Umeå) শহরে অনুষ্ঠিত আইইউএফআরও-এফএও (IUFRO-FAO) আয়োজিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে “Climate Change and Forest Adaptation” বিষয়ে যুগান্তকারী গবেষণার জন্য তিনি বৈশ্বিক পর্যায়ে ‘সেরা গবেষণা পুরস্কার’ অর্জন করেন, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার জন্য একটি অন্যতম গৌরবজনক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

মোঃ আল আমিন কাজী 

















