জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | ঢাকা
তারিখ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ | সময়: সকাল ১১:১৫ মিনিট
মো: আকাশ, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: পাহাড়ি জনপদে নিরাপদ পানির অন্যতম প্রধান উৎস হলো প্রাকৃতিক ঝিরি। তবে মানুষের অসচেতনতায় দিন দিন এই পানির উৎসগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। এ অবস্থায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে পরিবেশ সংরক্ষণ, নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের কাশেম পাড়া এলাকায় এক ব্যতিক্রমী ঝিরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফর সাসটেইনেবল বাংলাদেশ’ (YDSB)-এর মূল উদ্যোগে এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ভিশন’ ও স্থানীয় এনজিও ‘গ্রাউস’ (GRAUS)-এর যৌথ সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
বিশেষ এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন—বান্দরবান ওয়ার্ল্ড ভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার আশীষ কুমার হালদার, ওয়ার্ল্ড ভিশনের টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট এম. এ. আজিজ, গ্রাউসের (GRAUS) প্রোগ্রাম ম্যানেজার টুলু মারমা, সোনিয়া আক্তার এবং ওয়াইডিএসবির (YDSB) গ্রুপ লিডার সামিরা আক্তার শিরিন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে যত্রতত্র বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য ও ময়লা ফেলার কারণে কাশেম পাড়া এলাকার এই প্রাকৃতিক ঝিরির পানি সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছিল। অথচ স্থানীয় অনেক পরিবার বছরের পর বছর ধরে এই ঝিরির ঠিক পাশে কুয়া বা চুয়া তৈরি করে দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজের পানি সংগ্রহ করে থাকেন। ফলে ঝিরির এই বিষাক্ত দূষণ কুয়ার পানির গুণগত মানের ওপরও তীব্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল, যা পুরো এলাকার জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি বিবেচনায় ওয়াইডিএসবি (YDSB) এলাকার পানির প্রধান উৎসটি সংরক্ষণ এবং একটি স্বাস্থ্যসম্মত পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই ঝিরি পরিষ্কারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। কর্মসূচির আওতায় একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক সরাসরি ঝিরির হাঁটু পানিতে নেমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তারা ঝিরির বুক থেকে টন টন প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণ করেন।
আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরা দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্থানীয় পাহাড়ি জনগণের মধ্যে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, পানির উৎস রক্ষা এবং নিরাপদ পানি ব্যবহারের স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতামূলক বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণা চালান।
দিনব্যাপী এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে ‘ইউথনেট গ্লোবাল’ (YouthNet Global) এবং বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জিডিএস ক্লাব’ (GDS Club)-এর পরিবেশকর্মী সদস্যরাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের তরুণদের এই সম্মিলিত ও নিবিড় উদ্যোগ পাহাড়ের পরিবেশ সুরক্ষায় সামাজিক দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে অংশগ্রহণকারী সকল তরুণ ও কর্মকর্তারা পরিবেশ রক্ষার সম্মিলিত অঙ্গীকার ব্যক্ত করে একটি দলীয় ছবিতে অংশ নেন। সবুজ বনাঞ্চল ও মেঘ-পাহাড়ের মাঝে তরুণদের এই সবুজ আয়োজন স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, “পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা এবং নিরাপদ পানির উৎসগুলো টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের পাহাড়ের মানুষকে সবার আগে সচেতন হতে হবে। এই ধরনের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের মধ্যে নাগরিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করবে। ভবিষ্যতেও পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই ধরনের সমন্বিত ও স্বেচ্ছাশ্রমের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”

মোঃ আল আমিন কাজী 

















